জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে হোটেল কর্মচারী রাসেল মিয়ার মৃত্যুর দেড় বছর পর রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ৩৫ হাজার টাকা পাওনা কেন্দ্র করে তাকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ একটি চায়ের দোকানে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছিল।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত। পিবিআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. কালু মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত রাসেল মিয়া সরিষাবাড়ী পৌরসভার আরামনগর বাজারের একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে আরামনগর বাজারের দুধহাটি এলাকার একটি চায়ের দোকানের বাঁশের ধন্নার সঙ্গে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর রাসেলের মা মেহেনারা খাতুন বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলার তদন্ত পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত ও আসামির জবানবন্দির বরাতে পিবিআই জানিয়েছে, সোহেল নামের এক ব্যক্তির কাছে রাসেলের ৩৫ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে সোহেল তাকে হত্যার হুমকি দেন।
ঘটনার দিন ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় সোহেল তার এক বন্ধুর মাধ্যমে রাসেলকে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে কালু মিয়াসহ কয়েকজন মিলে রাসেলকে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে হত্যাকাণ্ডটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য লাশটি চায়ের দোকানে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
গত ১১ আগস্ট সরিষাবাড়ীর আরামনগর এলাকা থেকে অভিযুক্ত কালু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সেখানে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে মূল অভিযুক্ত সোহেলসহ সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেন কালু।
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, ‘পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাসেলকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’