জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘বর্ষা শেষে আমরা ধীরে শরৎ-শীতের দিকে আগাচ্ছি। এই আগানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের যাঁরা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আছেন, এখানে যাঁরা এমপি আছেন কিংবা মেয়র আছেন; তাঁদের স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে শুরু করবে। এবং তাঁরা ভুলে যাবেন, এই বর্ষায় কীভাবে চট্টগ্রাম ডুবে গিয়েছিল।’
সারজিস আলম বলেন, ‘আবার যখন বর্ষা আসবে, তখন তারা জামাকাপড় পরে শুটিং করার জন্য হাঁটুপরিমাণ, কোমরপরিমাণ পানিতে নামবে। এই নাটক ২০২৭ সালে আমরা আর দেখতে চাই না।’
আজ সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম এ কথা বলেন। নগরের স্টেশন রোডের পর্যটন করপোরেশনের হোটেল সৈকতে চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিল্মি স্টাইলে জঙ্গল সলিমপুরে গিয়েছেন; মনে হয়েছে, এটা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং তাঁরা (মন্ত্রী) যাওয়ার পরে এটা নিয়ন্ত্রণে মধ্যে এসেছে। কিন্তু এটা থেকে অল্প দূরত্বে যে রাউজান, সেই রাউজানে কিন্তু ওনাদের যাওয়ার সময় হয় না। কারণ, এটার কোনো পলিটিক্যাল কাভারেজ নাই বা এটা কোনো ক্লিকবেট হয় না।’
সারোয়ার তুষারের ভাষ্য, রাউজানে ‘ওপেন ফায়ারিং’ হচ্ছে। দলীয় কোন্দল, বিভিন্ন দখল ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অন্তত ২০ জনের বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ অবস্থা আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সারোয়ার তুষার বলেন, ‘তো চট্টগ্রামের মন্ত্রী হয়ে যদি চট্টগ্রামের তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে না পারেন, সারা দেশের অবস্থা বলাই বাহুল্য।’
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি নিয়েও কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মালয়েশিয়া নাকি পাঁচ লাখ জনশক্তি নেবে। সেখানে আবার আওয়ামী লীগের সময়ে যারা ওই সিন্ডিকেটে ছিল, তাদের একটা অংশ এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের একটা অংশ মিলে ২৫ জনের আরেকটা সিন্ডিকেট করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার এই চুক্তিতে আমরা শুনতে পাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রী এবং তার খুব কাছের কিছু মানুষজন এটার সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
পে-স্কেল প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদম গ্রেড ওয়ান থেকে গ্রেড টোয়েন্টি পর্যন্ত যে স্কেলে বেতন দেওয়া হয়, এই বেতন দিয়ে কারও ১৫ তারিখ পর্যন্ত সংসার চলে না। ১৫ তারিখ পর থেকে ধার করা শুরু হয়। তো সেই জায়গা থেকে আমরা বর্তমান সরকারকে আহ্বান জানাব, পে-স্কেল আপনারা বাস্তবায়ন করছেন, করছেন—এই বলতে বলতে ছয় মাস ধরে কালবিলম্ব করছেন।’