‘আমার মা মারা যাচ্ছে, আমি চিকিৎসা করাতে পারছি না।’ এই আর্তনাদ করে কাঁদতে কাঁদতে চেয়ারে বসে পড়েন মো. আলাউদ্দিন। সোমবার চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের জোনাল অফিসে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। এসময় ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম কমিটির আহ্বানে আমানতকারীরা তাদের জমানো টাকা তুলতে না পারা এবং বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবায় সমস্যার অভিযোগ জানিয়ে ওই জোনাল অফিসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সংগঠনের অর্থ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন জানান, অসুস্থ মাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসা হলেও ব্যাংকে আমানত থাকা সত্ত্বেও টাকা তুলতে না পারায় মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি।
সংগঠনের নেতাদের দাবি, গত ১০ থেকে ১৫ দিন চট্টগ্রামের বিভিন্ন শাখা পরিদর্শনের সময় তারা আমানতকারীদের চরম ভোগান্তির কথা জানতে পারেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, টাকা উত্তোলনসহ প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা নিতে গিয়ে তারা বিভিন্ন শাখায় অসহযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠনের নেতারা জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের দাবি, এই আলোচনার ফলে উপস্থিত আমানতকারীদের মধ্যে প্রায় ৬৬ জনের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য জরুরি আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
কর্মসূচিতে কেরানীহাট, মহেশখালী, পটিয়া ও আনোয়ারাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন আমানতকারী অংশ নেন। আমানতকারীদের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজন এবং বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য টাকা তুলতে না পেরে তারা দীর্ঘকাল ধরে সংকটে রয়েছেন।
অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শারমিন আক্তার বলেন, “আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমা করা টাকা তুলতে না পেরে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। অনেক গ্রাহকের জরুরি প্রয়োজন থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারছেন না।” তিনি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে স্বাভাবিক ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পুরো কর্মসূচিটি সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম কমিটির সভাপতি মু. আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সহসভাপতি শারমিন আক্তার ও অর্থ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।