জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ৩২ থেকে ৭০ সেন্ট বাড়তি দরে দুটি কার্গো কেনার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একটি কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ (মিলিয়ন মেট্রিক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) গ্যাসের খরচ ধরা হয়েছে ২৪ দশমিক ৬২৫ ডলার এবং অন্যটির জন্য ২৪ দশমিক ২৫ ডলার। গত সপ্তাহে (১৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির বৈঠকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যেখানে প্রতি এমএমবিটিইউ-এর খরচ ছিল ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার। এর ফলে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি কেনায় ৩২ থেকে প্রায় ৭০ সেন্ট ডলার খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জাহাজের আকারভেদে কার্গোর ধারণক্ষমতা ভিন্ন হতে পারে। বাংলাদেশে সাধারণত ৩২ লাখ থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি বহনকারী কার্গো আসে। নতুন দর অনুযায়ী, একটি কার্গো এলএনজি কিনতে ৮ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা ১ হাজার ১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা (১২২ দশমিক ৫০ টাকা বিনিময় হার ধরে) পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এর ফলে পাঁচ দিন আগে কেনা এলএনজির তুলনায় প্রতি কার্গোতে ১৩ কোটি ১৭ লাখ থেকে ২৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।

বিএনপি সরকারের সময় থেকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি মূল্যে এলএনজি কেনার ব্যয় প্রকাশ করা হচ্ছিল। তখন বেশিরভাগ সময় প্রতি কার্গোর খরচ ৭০০ কোটি টাকার আশেপাশে ছিল। জুলাই মাসে এই খরচ বেড়ে ৯৪৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। গত ৩০ জুলাই ক্রয় কমিটির বৈঠকে যে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর ২৬ দিনের মাথায় এলএনজির প্রতি কার্গো কেনায় প্রায় ৭০ কোটি টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে।

গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হয়। কারিগরি সমস্যা এবং কার্গোর স্বল্পতার কারণে সেখানকার সরবরাহ কয়েক দফা ওঠানামা করে। তিন দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর থেকে মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ওইদিন দুপুরে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এই টার্মিনালে একটি নতুন এলএনজি কার্গো ভিড়েছে।