বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ তাঁর নাম ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গুজব ছড়ানো ঠেকাতে প্রকাশ্য নোটিশ জারি করেছেন। সম্প্রতি স্ত্রী সুনীতা আহুজার সঙ্গে সম্পর্ক, বিবাহবিচ্ছেদ থেকে দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জনসহ ব্যক্তিগত বিষয় ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দাবি, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই তিনি কঠোর অবস্থান নেন।

নোটিশে গোবিন্দ স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি বা তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে কারও কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে ছবি, ভিডিও, অডিওসহ যে কোনো ধরনের কনটেন্ট তৈরি, পরিবর্তন বা ব্যবহারের অনুমতি দেননি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের উদ্দেশে তিনি জানিয়েছেন, গোবিন্দ বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিথ্যা, মানহানিকর কিংবা যাচাই না করা তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করা যাবে না।

নির্দেশনা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এর আওতায় মানহানি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, পরিচয়ের অপব্যবহার এবং সাইবার অপরাধের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নোটিশে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গোবিন্দ উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতের কাছে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা বা আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি, যেখানে অভিযোগ—কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে গোবিন্দকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে।

ব্যক্তিগতভাবে জনসমক্ষে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এসব খবর ছড়ানো হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গোবিন্দ। প্রকাশ্য নোটিশের মাধ্যমে তিনি যাচাই না করা খবর ও গুজবের প্রচার বন্ধে জোর দেন।

সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে এর আগে নানা আলোচনা ছড়ায় গোবিন্দ ও সুনীতা আহুজাকে ঘিরে। সুনীতার একাধিক সাক্ষাৎকার ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা আরও বিস্তৃত হয়। এ সময় গোবিন্দ দ্বিতীয় বিয়ের পরিকল্পনা করছেন—এমন দাবিও সামনে আসে। পরে অভিনেতার ম্যানেজার শশী সিনহা ওই দাবি অস্বীকার করেন।

এদিকে সুনীতা আহুজা গোবিন্দর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন; পরে তিনি সেই আবেদন প্রত্যাহার করেছেন।

অন্যদিকে, সাত বছরের বিরতির পর বড় পর্দায় ফিরতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন গোবিন্দ। সর্বশেষ তাঁকে বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রঙ্গিলা রাজা’ ছবিতে। গত জুলাইয়ে নিজের প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে দুটি ছবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি—‘রুপা’ এবং ‘দুনিয়াদারি’। প্রায় সাত বছরের বিরতির পর ‘রুপা’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন গোবিন্দ। ছবিটিতে তাঁর বিপরীতে নবাগতা রানি স্বর্ণকারকে দেখা যাবে।

গোবিন্দ ও সুনীতার ছেলে যশবর্ধন আহুজাও বড় পর্দায় অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন। ‘হিরো কি হিরোইন’ ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিষেক হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সাজিদ খান পরিচালিত এই হরর-কমেডিতে যশবর্ধনের বিপরীতে নিতাংশী গোয়েলকে দেখা যাবে। যশবর্ধনের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করবেন তাঁর বাস্তব জীবনের মা সুনীতা আহুজা।