যশোরের কেশবপুরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ সামনে রেখে দুই ভাই ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। এতে দুই ভাই এবং তাঁদের দুই স্ত্রী আহত হয়েছেন। আহত চারজনকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সন্ন্যাসগাছা গ্রামের বাসিন্দা খালেক মান (৭৫) আজ ভোরে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। তাঁর দুই ছেলে মাহবুবুর রহমান (৫২) ও আসাবুল (৪৫)। জীবদ্দশায় খালেক মান দুই ছেলের নামে জমি লিখে দিয়েছিলেন। মাহবুবুরকে চুকনগর-গৌরীঘোনা সড়কের পাশে ১৮ শতক জমি এবং আসাবুলকে গ্রামের বাড়িসহ ১৫ শতক জমি দেওয়া হয়।

আসাবুলের অভিযোগ, "তাঁর বড় ভাই বাবাকে ভুল বুঝিয়ে সড়কের পাশে বেশি দামের জমি লিখে নিয়েছেন। তাঁকে তুলনামূলক কম মূল্যের জমি দেওয়া হয়েছে।"

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে মাহবুবুরের বাড়িতে খালেক মান মারা যাওয়ার পর আসাবুল বাবাকে তাঁদের পুরোনো বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন না করার কথা বলেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি বেঁধে যায়।

আসাবুল দাবি করেন, "তাঁর বাবাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য তিনি জায়গা দেখিয়ে দিলেও বড় ভাই ও তাঁর ছেলেরা তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রী হালিমাকে মারধর করেন। তাঁর (আসাবুলের) মাথায় আঘাত লেগেছে। তাঁর স্ত্রী হালিমাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে।"

অন্যদিকে মাহবুবুর রহমান বলেন, "পৈতৃক বাড়ির কবরস্থানে বাবাকে দাফন করতে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। এ কথা জানতে চাইলে ছোট ভাই আসাবুল ও তাঁর লোকজন তাঁদের ওপর হামলা করেন।"

মাহবুবুর আরও জানান, বাবার লাশ দাফন করার পর তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন এবং এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করবেন।

আহত আসাবুল ও তাঁর স্ত্রী হালিমা বেলা পৌনে দুইটার দিকে এবং মাহবুবুর ও তাঁর স্ত্রী মমতাজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বেলা দেড়টার দিকে খালেক মানকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, "মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং লাশ দাফন করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"