মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনকালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সোমবার দুপুরে উপজেলা সদরে এসব ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে হরিরামপুর থানার পাশ থেকে পেট্রলবোমা-সদৃশ চারটি কাচের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আবু সাদাত মো. শাহিন এবং ধূলশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি বিল্লাল খানের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। লেছড়াগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীতে বালুমহালের ইজারা পেয়েছেন খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বিএনপি নেতা বিল্লাল খান। অন্যদিকে, ১ জুলাই থেকে আরিচা নদীবন্দরে নিয়ন্ত্রণাধীন হরিরামপুর উপজেলার ভাটির শেষ সীমানা হয়ে পাবনার পাকশী ও সিরাজগঞ্জ থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ চ্যানেল নৌপথে চলাচলকারী মালবাহী নৌযানে শুল্ক আদায়ের ইজারা পেয়েছেন গ্রুপ অন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন। তাঁর পক্ষে শুল্ক আদায় করে আসছেন যুবদল নেতা আবু সাদাত মো. শাহিন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার হামলা, মারধর ও অর্থ লুটের অভিযোগে দুই পক্ষ থানায় মামলা করে। এরপর আজ দুপুরে দুই পক্ষ উপজেলা সদরে পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। বিএনপি নেতা বিল্লাল খান উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন এবং মো. শাহিনের সমর্থকরা থানা ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়।
বেলা ১১টার দিকে বিল্লাল খানের লোকজন উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে এবং মো. শাহিনের লোকজন থানার অদূরে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার দিকে শাহিনের লোকজন বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানার কাছে এসে আন্ধারমানিক সড়কের দুই পাশে মানববন্ধন শুরু করেন। এই সময় বিল্লাল খানের লোকজন মিছিল নিয়ে থানার কাছে এলে শাহিনের লোকজন সেখান থেকে সরে যেতে থাকেন এবং তখনই একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে দুই পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর বিল্লাল খানের লোকজন উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে প্রায় আধা ঘণ্টা মানববন্ধন করেন।
দুই পক্ষ চলে যাওয়ার পর থানার সীমানাপ্রাচীরের কাছ থেকে পুলিশ চারটি ছোট কাচের বোতল উদ্ধার করে, যেগুলোর মুখে কাপড়ের সলতা লাগানো ছিল। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বস্তুগুলো পেট্রলবোমার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হলেও ভেতরে পেট্রল ছিল না।
এ বিষয়ে আবু সাদাত মো. শাহিন বলেন, "নৌ চ্যানেলের ইজারার টাকা তুলতে গেলে বিল্লাল খানের লোকজন বাধা দেন। তাঁর লোকজন চাঁদা দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় গত শুক্রবার দুপুরে বিল্লাল খানের লোকজন নৌ চ্যানেলের ইজারার টাকা উত্তোলনকারীদের ওপর হামলা, মারধর, টাকাপয়সাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পরে তিনিসহ তাঁদের লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন বিল্লাল।"
অন্যদিকে বিএনপি নেতা বিল্লাল খান অভিযোগ করেন, "বিভিন্ন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন যুবদল নেতা মো. শাহিন। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর বালুমহালে গিয়ে কর্মচারীদের মারধর করা হয়েছে। বালুমহালের প্রায় পৌনে আট লাখ টাকা লুট করেছেন। এ নিয়ে তিনি থানায় মামলা করেছেন।"
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আফজাল হোসেন জানান, "দুই পক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। ককটেল নয়, পটকা ফোটানো হয়েছে। পেট্রলবোমা–সদৃশ চারটি কাচের বোতল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জব্দ করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।