ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের একটি কক্ষ থেকে এক শিক্ষার্থীর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে। চুরি হওয়া ফাইল ফেরত দেওয়ার কথা বলে ওই শিক্ষার্থীর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দেওয়ায় তাঁর একটি সনদ পুড়িয়ে ফেলার ভিডিও পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আহমেদ জুনাইদ (২৬) আনন্দ মোহন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের ছাত্র। তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ২১৩ নম্বর কক্ষে থাকেন। তাঁর বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার তারাগঞ্জ উত্তর বাজার এলাকায়।
পরিবার ও হল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ছয় দিন জুনাইদ নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। গতকাল রোববার বিকেল চারটার দিকে তাঁর বড় ভাই আহমেদ সাদিকের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘সাজান মিয়া’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় বলা হয়, জুনাইদের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল তাঁদের কাছে আছে। ফাইল ফেরত পেতে হলে দুই লাখ টাকা দিতে হবে। এর সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে তাঁর পাসপোর্টের ছবিও পাঠানো হয়।
এরপর পরিবারের সদস্যরা আনন্দ মোহন কলেজের নজরুল হলে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, জুনাইদের কক্ষের ওয়ার্ডরোবের তালা ভাঙা ছিল। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফাইলের পাশাপাশি টিউশনির কয়েক হাজার টাকাও চুরি হয়েছে বলে জানা যায়।
চুরি হওয়া ফাইলে জুনাইদের এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতকের মূল নম্বরপত্র, সনদ, নিবন্ধন কার্ড, জন্মসনদ, পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পাওয়া পুরস্কারের সনদ ছিল। জুনাইদ জানান, টাকা না দেওয়ায় রোববার একটি সনদ পুড়িয়ে ফেলার ভিডিও তাঁর ভাইয়ের ফোনে পাঠানো হয়েছে।
আহমেদ জুনাইদ বলেন, ‘আমি হাসপাতালে শয্যাশায়ী। বিছানা থেকে উঠতেই পারছি না। কারা আমার মূল্যবান কাগজপত্র চুরি করে টাকা দাবি করছে, তা বুঝতে পারছি না। আমার জীবনের সব অর্জন ও স্বপ্ন এভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজে কোথাও গিয়ে ব্যবস্থা নিতেও পারছি না।’
আজ সোমবার ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডিতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীর কক্ষ থেকে কাগজপত্র চুরি এবং পরে টাকা দাবির বিষয়টি জানেন নজরুল হলের সহকারী হল সুপার মিজানুর রহমান। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।