গত জানুয়ারিতে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়, কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়নি, ফলে সেতুটি পড়ে আছে।

.

সংযোগ সড়ক নেই। এ কারণে কাজে আসছে না চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে ধনাগোদা শাখা নদীর ওপর নির্মিত লুধুয়া সেতুটি। বাঁশ-কাঠের মই বেয়ে ঝুঁকি নিয়েই ওই সেতুতে উঠছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজন। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেতুর আশপাশের ১০টি গ্রামের মানুষ।

সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেছে। তবে এর মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার লুধুয়া গ্রামে ধনাগোদা শাখা নদীর ওপর ৪১ ফুট দীর্ঘ ও ২২ ফুট চওড়া সেতু এবং এর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালে শুরু হয়। ‘মেসার্স সুন্দরবন’ নামে স্থানীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। কার্যাদেশ অনুসারে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে গত জানুয়ারিতে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়নি, ফলে সেতুটি পড়ে আছে।

.

গতকাল রোববার সকালে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক নেই। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন ভাঙাচোরা বাঁশ ও কাঠের মই বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠছেন। এতে দুর্ভোগ হচ্ছে তাঁদের। এ সময় নদী পারাপারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

.
মই বাইয়া প্রতিদিন সেতুতে উইঠা আমাগো স্কুলে আওন লাগে। মইতে উঠলেই ঝাঁকুনি লাগে। খুব ভয় ও কষ্ট অয় তহন। সেতুতে উঠতে গিয়া নিচে পইড়াও কয়েকবার ব্যথা পাইছি। একজনের হাতও ভাঙছে।
রুদ্র চন্দ্র, শিক্ষার্থী
.

উপজেলার লুধুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. জানিবুল হক বলেন, দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় আট মাস ধরে সেতুটি কাজে আসছে না। তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে মই বেয়ে ওই সেতুতে উঠছেন। এতে সেতুর আশপাশের লুধুয়া, নান্দরকান্দি, শাহাবাজকান্দি, ফরিদকান্দি, পুরকান্দি, ঘোড়াকান্দি, ভাটিরসুলপুর, সুজাতপুর, উত্তর ফতেহপুর ও উত্তর ঠেটালিয়া এই ১০ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার লোকের ভোগান্তি হচ্ছে। দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন অনেকে।

জানিবুল হকের অভিযোগ, বিষয়টি এলজিইডি কার্যালয়কে একাধিকবার জানানো হলেও তারা এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

.

লুধুয়া গ্রামে গিয়ে কথা হয়, লুধুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রুদ্র চন্দ্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মই বাইয়া প্রতিদিন সেতুতে উইঠা আমাগো স্কুলে আওন লাগে। মইতে উঠলেই ঝাঁকুনি লাগে। খুব ভয় ও কষ্ট অয় তহন। সেতুতে উঠতে গিয়া নিচে পইড়াও কয়েকবার ব্যথা পাইছি। একজনের হাতও ভাঙছে।’

জানতে চাইলে সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার রিপন পাটোয়ারী গতকাল মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, জায়গাসংক্রান্ত জটিলতায় সেতুর পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে চালু করা যাচ্ছে না সেতুটি।

তবে এলজিইডির বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার গত শনিবার মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জায়গা অধিগ্রহণের চেষ্টাও চলছে।