নাটোরের লালপুরের আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। ফরম পূরণের টাকা দিয়েও প্রতারণার শিকার হওয়ায় তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে ব্যর্থ হন। তবে শিক্ষা বোর্ডের বিশেষ ব্যবস্থায় তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজশাহীর নিউ ডিগ্রি সরকারি কলেজ কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অংশ নেন তারা। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—ইসরাত জাহান, সবুজ আহমেদ, তানভীর হোসেন, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, শাওন আহমেদ ও সাব্বির হোসেন।
কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষায় থাকা এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, তার সন্তান আব্দুলপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। প্রতারণার শিকার হয়ে সে প্রথম দিনে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। অনেক চেষ্টার পর অবশেষে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এতে কিছুটা ভোগান্তি হলেও সন্তানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
আরেক অভিভাবক জানান, পরীক্ষা কেন্দ্র রাজশাহীতে হওয়ায় মেয়েকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছেন। নতুন পরিবেশে কিছুটা সমস্যা হলেও তিনি আশা করছেন, তার মেয়ে মানিয়ে নিয়ে পরীক্ষা দেবে এবং ভালো ফল করবে।
আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামদুদুর রহমান বলেন, প্রতারণার শিকার আট পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড থেকে কলেজকে জানানো হয়। পরে দ্রুত পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন জানান, লালপুরের আটজনসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ৪৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য এ বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে শিক্ষা বোর্ডের কাছাকাছি স্থানে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানা যায়, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এই আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য কলেজের অফিস সহায়কের কাছে টাকা জমা দেন। কিন্তু ওই কর্মচারী টাকা আত্মসাৎ করে ফরম পূরণ না করায় শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পাননি। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও রাজশাহী বোর্ডের হস্তক্ষেপে তাঁদের ফরম পূরণ ও দ্বিতীয় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সোমবার বাদ পড়া বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষাটি গ্রহণের মাধ্যমে তাদের অনিশ্চয়তা কাটল।
অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামদুদুর রহমান।