আজ ২৪ আগস্ট, ইয়াসমিন ট্র্যাজেডি দিবস। ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে কিশোরী ইয়াসমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে দিনাজপুর শহর। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশের গুলিতে সাতজন নিহত হন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে প্রতিবছর ২৪ আগস্ট দেশজুড়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
ইয়াসমিনের মৃত্যুর ঘটনায় দিনাজপুরসহ সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ওই ঘটনার ৩১ বছর পরও নারীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাই নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শেষে ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় প্রদান করেন। এর আগে তিনটি আদালতে মামলাটির বিচারকাজ চলে ১২৩ দিন। আদালতের রায়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মঈনুল, কনস্টেবল আবদুস সাত্তার ও পিকআপচালক অমৃত লাল বর্মনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের প্রক্রিয়া শেষে ২০০৪ সালে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ইয়াসমিন ট্র্যাজেডির স্মরণে প্রতিবছর দিনাজপুরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও বেসরকারি সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে। এ বছরও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ইয়াসমিনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে।