রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করলে তা দেশবাসীর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করবে এবং শেষ পর্যন্ত দেশকে ‘ধ্বংস’ করে দেবে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত রোববার তিনি এই মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান। গত মাসে ফেদোরভকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করার পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে আন্দোলনকারীরা যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবির সঙ্গে একমত হননি। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে এটিই ছিল প্রথম নির্বাচনের দাবি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি মনে করি, যদি আমরা দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে এ ধরনের যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।’
ইউক্রেনের আইন অনুযায়ী যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন নিষিদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ঝুঁকি, লাখ লাখ মানুষের বিদেশে অবস্থান, রুশ দখলদারির প্রভাব এবং সম্মুখযুদ্ধে নিয়োজিত সেনাদের কারণে এই মুহূর্তে ভোট আয়োজন করা অত্যন্ত জটিল।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আরও জানান, কিয়েভের মিত্ররা যদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে, তবে যুদ্ধের মধ্যেও নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এমন কোনো প্রস্তাব দেননি। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে নির্বাচন রাষ্ট্রের জন্য একটি সুনামির মতো অবস্থা হবে, যা ইউক্রেনকে বিভক্ত করে দেবে। তাই আমার কৌশল হলো, দেশকে যুদ্ধের অবসানের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ইউক্রেনকে টিকিয়ে রাখা।’
এদিকে, কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির ৫ আগস্টের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় চান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই কেবল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। বর্তমানে জেলেনস্কির জনসমর্থন প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি স্থিতিশীল থাকলেও, রাজনীতিতে নতুন মুখ দেখার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও এখনই ভোট দেওয়ার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কম।
দীর্ঘদিন জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকা মিখাইলো ফেদোরভকে এখন তাঁর সম্ভাব্য প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, সে বিষয়ে ফেদোরভ এখনো কিছু জানাননি।