প্যাট কামিন্সের সংবাদ সম্মেলন শেষ হতে আরও সময় লাগলেও বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের আসার খবর তখনও মিলছিল না। পাশাপাশি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া কর্মীদের দ্রুত বাসায় ফেরার তাগিদও চলছিল। সংবাদ সম্মেলন শেষ করে সাধারণত দিন শেষের খেলার পর সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা প্রেসবক্স খোলা থাকে; এরপর লাইট-এসি-দরজা বন্ধ।
এর আগেই বন্ধ করতে হয় প্রেস কনফারেন্স রুম। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলন না করলে তা বন্ধ করা সম্ভব নয়। সে কারণে নাজমুলের গন্তব্য নিয়েই কৌতূহল তৈরি হয়।
ড্রেসিংরুমের সামনে দেখা যায়, ডাগআউটে বসে কোট-প্যান্ট পরা এক ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলছেন নাজমুল। কাছেই দাঁড়িয়ে আছেন দলের মিডিয়া ম্যানেজার। ড্রেসিংরুম থেকে প্রেস কনফারেন্সে আসার পথেই নাজমুল কারও সঙ্গে জরুরি কথা বলতে থেমেছিলেন।
এ সময় জল্পনাকল্পনা ওঠে—নাজমুল হয়তো অস্ট্রেলিয়ার কোনো রেডিওর সঙ্গে কথা বলছেন, কিংবা সিরিজ সম্প্রচারকদের কোনো অনুরোধ মেটাচ্ছেন। তবে সে রকম হলে সেখানে ক্যামেরাম্যান থাকত—এমন কথাও শোনা যায়। শেষ পর্যন্ত কৌতূহলের মধ্যে কথা শেষ করে নাজমুল নিজেই সংবাদ সম্মেলনে এসে হাজির হন। আসার পথে কার সঙ্গে কথা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সে বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
তবে সংবাদ সম্মেলনের আগেই খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়—নাজমুল যাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি মাইক হাসি।
তাঁদের লম্বা কথপোকথনের উদ্যোগ নাজমুলের দিক থেকেই নেওয়া। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে নাজমুল জানিয়েছেন, ‘হাসি তো এখানে ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মাঠে দেখা হতো প্রতিদিন, আজ খেলা শেষে তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম, একটু কথা বলতে চাই। তারপর তিনি আমাকে ২৫ মিনিটের মতো সময় দিলেন।’
তাঁদের কথা কী নিয়ে—এ প্রশ্ন এড়িয়েই নাজমুল বলেন, ‘এটা একদমই ব্যক্তিগত ব্যাপার’। বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। শুধু বলেছেন, ‘আমার খেলা নিয়েই কথা বলেছি তাঁর সঙ্গে, কীভাবে আরও ভালো ক্রিকেটার হতে পারি, নিজের উন্নতির জন্য কী করতে পারি...তিনি তো দেখলেন খেলা আমার...এসবই। এর বাইরে কিছু নয়।’
অফিশিয়াল সম্প্রচারকারী ছাড়াও বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে মাঠে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নানা টেলিভিশন ও রেডিওর বিশেষজ্ঞ। মাইক হাসি ছাড়াও সেখানে ছিলেন মার্ক ওয়াহ, মার্ভ হিউজ, রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, জেসন গিলেস্পি, সাইমন ক্যাটিচদের মতো নাম।
নাজমুল আগেও বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই ব্যাটসম্যান ছোটবেলা থেকেই তাঁর অন্যতম আদর্শ। তাঁকে এত কাছে পেয়ে দরকারি আলোচনা না সেরে থাকা যায় না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। নাজমুলের কাছে মাইক হাসির অবস্থান প্রসঙ্গে জানা যায় তাঁর মুখেই—‘হাসি আমার অন্যতম ফেবারিট খেলোয়াড়। কয়েকজন ফেবারিট খেলোয়াড়ের মধ্যে তিনি একজন এবং টপ লিস্টে, একদম ওপরের লিস্টে।’
কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং খেলাটা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণাই হাসিকে ‘মি. ক্রিকেট’ পরিচয়ে পরিচিত করেছিল। চাপকে তাঁর খেলার অভিধানেই ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭৯টি টেস্ট খেলে ৫১.৫২ গড়ে হাসি রান করেছেন ৬২৩৫। টেস্টে সেঞ্চুরিই আছে ১৯টি। ১৮৫ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে রান ৫৪৪২, গড় ৪৮.১৫। টি-টুয়েন্টি খেলেছেন মাত্র ৩৮টি। ৩৭.৯৪ গড়ে এই সংস্করণে হাসির রান ৭২১।
নাজমুলের ভালো লেগেছিল হাসির ধারাবাহিকতা এবং গোছানো ব্যাটিং। একই সঙ্গে যেকোনো কন্ডিশন ও ম্যাচ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে খেলতে পারার গুণটাও বিশেষভাবে টানত নাজমুলকে। সে কারণেই সুযোগ পেলে হাসির সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা ছিল। ম্যাকাই টেস্টের পর মিলে যায় সেই সুযোগ; হাসিও হাসিমুখে রাজি হন।
ম্যাকাইয়ে দুই দিনে টেস্ট হার এ সফরের সফর-গল্পে দাগ হয়ে থাকবে বাংলাদেশ দলের জন্য। তবে চার দিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটে টেস্ট জয় এবং সিরিজ ড্র—পেসারদের পারফরম্যান্স অর্জনের দিকটাও কি যথেষ্ট ভারী করে তুলবে না, তা নিয়েই আলোচনা চলে। পাশাপাশি নাজমুলের প্রাপ্তিতে যুক্ত হয় মাইক হাসির সঙ্গে সাক্ষাৎ।