ময়মনসিংহ নগরীতে এক পশুচিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে তাঁকে মারধরের অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে নগরের একটি এলাকা থেকে আরফিন রশিদ নামের ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মাসকান্দা এলাকার হারুন অর রশিদের মেয়ে এবং তাঁর বয়স ২০ বছর। আজ রোববার দুপুরে তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে জানা গেছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের জিলা স্কুলের পাশের একটি গলিতে অবস্থিত ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামক চেম্বারে পশুচিকিৎসক আশিকুর রহমানকে মারধর করা হয়। এই ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ মামলা দায়ের করে। মামলায় আরফিন রশিদকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মামলায় তাঁকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, "অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই তাঁর চেম্বারে এসে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হতো।"

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক নারীসহ কয়েকজন চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করেন। ভিডিওতে ওই নারীকে জুতা খুলে চিকিৎসককে মারধর করতে দেখা যায়, আর পাশে থাকা ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করেন এবং পরে চিকিৎসককে কিলঘুষি মারেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভিযুক্তরা চেম্বারে ঢুকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। প্রতিবাদ করায় চিকিৎসককে মারধর করা হয় এবং পরবর্তীতে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে তাঁকে রড দিয়ে পেটানো হয়। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা কর্মী ঈশান আহমেদকেও মারধর করা হয় এবং চিকিৎসক আশিকুর রহমানের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকে জোর করে চেম্বার থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আজ দুপুরে তাঁকে আদালতে তোলা হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।