ছাত্রশিবির ছেড়ে যুবশিবির গঠন করার কারণে জামায়াতের কর্মীদের দ্বারা ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়েছেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। সম্প্রতি মুক্তকণ্ঠকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিযোগ জানান।
সাক্ষাৎকারে ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, "ছাত্রশিবির ছেড়ে যুবশিবির করায় তারা আমার বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে প্রপাগান্ডা ছড়িয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব তুলেছে। তারা আমাকে মোসাদ, সিআইএর এজেন্টসহ যা বলা যায়, তা বলেছে। পরে অনেকে আমাকে জানিয়েছেনও আমার বিরুদ্ধে তারা কত ধরনের আপত্তিকর কথা ছড়িয়েছে। দেশ-বিদেশের যেখানে শিবিরের বলয় আছে, সেখানেই আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছে। শারীরিকভাবে আমাকে হিট করেছে।"
তিনি আরও জানান, যুবশিবির ঠেকাতে জামায়াতের কর্মীরা চট্টগ্রামে গিয়ে তাকে গুরুতরভাবে আহত করেছিল। সেই সময়ে শিবিরের অনেক সদস্য ব্যাপকহারে যুবশিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি যখন চট্টগ্রামে যান, তখন ওই হত্যাচেষ্টায় জড়িত একজন ব্যক্তি তার কাছে এসে ক্ষমা চেয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
শিবির সভাপতির পদ হারানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জানান, ১৯৮২ সালে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি মতিউর রহমান নিজামীর কাছে ১৯৭১ সালের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চান। ড. কাদের বলেন, "আমি তখন মতিউর রহমান নিজামী সাহেবের কাছে গিয়ে ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে জানতে চাই। আমার কথাবার্তায় তাকে ভার মনে হলো। তিনি বললেন, তোমরা কী করতে চাও। বললাম, তথ্য জানতে চাই। পাকিস্তান আর্মিকে সাপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে কোথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এটা কি জামায়াতের শুরা মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আলবদরকে কি জামায়াত স্বীকৃতি দিয়েছে? তিনি কিছু বললেন না। একপর্যায়ে দেখি আমার বিরুদ্ধে সারা দেশে অনাস্থা প্রস্তাব আনল যে, শিবিরের সদস্যদের আমার প্রতি সভাপতি হিসেবে আস্থা নেই। ভেতরগত সমস্যা তৈরি হলো।"
ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি উল্লেখ করে তিনি জানান, গোলাম আযম মীমাংসার জন্য একটি বৈঠক ডাকেন। সেখানে প্রাক্তন নেতাদের উপস্থিতিতে একটি লিখিত প্রস্তাব পড়া হয়। ড. কাদের সেই মুহূর্তটি স্মরণ করে বলেন, "আব্দুল কাদের বাচ্চু (আহমদ আবদুল কাদের) শিবির জীবন শেষ করবে আর শাহজাহান চৌধুরী—যিনি ছিলেন অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রধান উদ্যোগী, তিনি শপথ ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে তিনটি রোজা রাখবে। সবাই চুপ। মুজাহিদ নামের এক ভাই বললেন, আমি এই রায় মানি না। তখন থেকেই ছাত্রশিবির শেষ আমার।"