প্রতি বছর ৫ আগস্ট রাষ্ট্রাচারের অংশ হিসেবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জুলাই যাদুঘরের মেমোরিয়ালে পুষ্পস্তবক অর্পণের প্রস্তাব করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।

স্ট্যাটাসে ফারুকী উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলের নেতারা যেন জুলাই যাদুঘরের মেমোরিয়ালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের সূচনা করেন। এটিকে রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে দলই বাংলাদেশে রাজনীতি করবে, তাদেরকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং জুলাই যাদুঘরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেই তা করতে হবে।’

বিএনপি সরকারের বন্ধুদের উদ্দেশ্যে তাদের ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ স্লোগানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ফারুকী লেখেন, কার হাত থেকে ‘টেক ব্যাক’ করার কথা বলা হয়েছিল তা দেশবাসী জানতো। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ জানতো দেশ এর আগে কখনো এতটা পরাধীন হয়নি এবং আগে কখনো কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়নি ‘আমি অমুক দেশের সরকারকে বলে এসেছি হাসিনা সরকারকে যেন আবারও ক্ষমতায় রাখে’। তাই মানুষ বুঝতো দেশের চাবি আসলে কার হাতে ছিলো

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব কারণেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগস্টের দুই তারিখে ‘দেশ স্বাধীন’ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফলে যেসব বীর সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাদের নিয়মিত স্মরণ করা রাষ্ট্রাচারের একটি অংশ হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

জুলাই জাদুঘর উদ্বোধনের প্রেক্ষাপট টেনে ফারুকী জানান, উদ্বোধনের আগেই তিনি এই প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন; কারণ মেমোরিয়াল তৈরির সময় এমন পরিকল্পনাই ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারি আনুষ্ঠানিকতায় মেমোরিয়ালে পুষ্পস্তবক অর্পণের ভাবনাটি বাদ দেওয়া হয়। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে মাঝখান থেকে মিউজিয়াম ঘুরিয়ে দেখানো হয়, যা তার কাছে সিনেমার মাঝখান থেকে দেখার মতো মনে হয়েছে।

তিনি মনে করেন, সাভার স্মৃতিসৌধ থেকে ফেরার পথে জুলাই শহীদদের মেমোরিয়ালে শ্রদ্ধা জানালে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ পুনরুজ্জীবিত হবে, যা ৫ আগস্ট ছাড়াও যেকোনো সময় করা সম্ভব। এছাড়া, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিসি ও এসপিরা যেভাবে নিজ নিজ শহরের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন, তা অব্যাহত রাখার পক্ষেও মত দেন তিনি।