যুক্তরাজ্যের এথেল ক্যাটারহ্যাম গতকাল শনিবার তাঁর ১১৭তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন। ১৯০৯ সালের ২১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা এথেল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত ব্যক্তি। তিনি দু-দুটি বিশ্বযুদ্ধ দেখেছেন, ভারত ও হংকং ভ্রমণ করেছেন এবং ২০২০ সালে ১১০ বছর বয়সে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েও সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

এথেল ইংল্যান্ডের লাইটওয়াটারের হলমার্ক লেকভিউ কেয়ার হোমে বাস করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত ব্যক্তি হওয়ার রেকর্ড গড়েন। এর আগে ১১৬ বছর বয়সী ব্রাজিলের সন্ন্যাসিনী সিস্টার ইনাহ কানাবারো লুকাস এই স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন। ইনাহ লুকাসের মৃত্যুর পর এথেল এই স্বীকৃতি পান।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, এথেল কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর বেঁচে যাওয়া সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তিনি কিং এডওয়ার্ড সপ্তমের আমল দেখা শেষ জীবিত ব্যক্তি।

হ্যাম্পশায়ারের শিপটন বেলিঙ্গার এলাকার বাসিন্দা এথেল আট ভাইবোনের মধ্যে সপ্তম। তিনি উইল্টশায়ারের টিডওয়ার্থে বেড়ে ওঠেন। ১৯২৭ সালে কিশোরী বয়সে ভারত ভ্রমণ করে একটি সামরিক পরিবারে শিশুদের দেখাশোনার কাজ শুরু করেন।

১৯৩১ সালে ব্রিটেনে এক নৈশভোজের অনুষ্ঠানে এথেলের সঙ্গে তাঁর স্বামী নরম্যানের পরিচয় হয়। নরম্যান ছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল। পরে তাঁরা হংকংয়ে বসবাস করেন এবং সেখানে এথেল শিশুদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে এ দম্পতি যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন এবং তাঁদের দুই মেয়েকে বড় করে তোলেন। এথেলের দুই মেয়ের কেউই এখন আর বেঁচে নেই। ১৯৭৬ সালে এথেলের স্বামী মারা যান। বর্তমানে তাঁর তিন নাতনি ও পাঁচ প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী রয়েছেন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, এথেল ক্যাটারহ্যামের বোন গ্ল্যাডিস বাবিলাসও দীর্ঘ জীবন পেয়েছিলেন। তিনি ১০৪ বছর ৭৮ দিন বেঁচে ছিলেন এবং ২০০২ সালের ৯ মার্চ মারা যান।

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক নারী ফ্রান্সের জ্যাঁ কালমঁ ১৯৯৭ সালে ১২২ বছর ১৬৪ দিন বয়সে মারা যান।