অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৮ রানে ৭ উইকেট, শরিফুল ইসলামের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। তবে শুধু ব্যক্তিগত সেরা বললে এই অর্জনের পুরোটা বলা হয় না। ম্যাকাইয়ের এক স্পেলেই বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের একাধিক বড় নাম ও রেকর্ড পেছনে ফেলেছেন বাঁহাতি এই পেসার।

প্রথম দিনের খেলা শেষে শরিফুলের বোলিং ছিল ১১ ওভারে ৩৫ রানে ৬ উইকেট। দ্বিতীয় সকালে তার ইনসুইং ইয়র্কারে এলবিডব্লিউ হন ৬৭ রান করা ক্যামেরন গ্রিন। রিভিউ নিয়ে পাওয়া সেই উইকেটেই পূর্ণ হয় শরিফুলের সাত। শেষ পর্যন্ত ১৫ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে শেষ করেন তিনি।

দেশের বাইরে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো বোলারের এটিই সেরা ইনিংস বোলিং। আগের রেকর্ডটি ছিল এবাদত হোসেনের। ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন এবাদত। সেই স্পেলেই বাংলাদেশ পেয়েছিল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ঐতিহাসিক জয়।

এই অস্ট্রেলিয়া সফরেই রেকর্ডটির কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন হাসান মাহমুদ। ডারউইনের প্রথম টেস্টে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তবে এক টেস্টের ব্যবধানেই এবাদত ও হাসান দুজনকে ছাড়িয়ে দেশের বাইরে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সাত উইকেট নিলেন শরিফুল।

দেশের মাঠ কিংবা দেশের বাইরে, বাংলাদেশের কোনো পেসারেরও এটিই সেরা টেস্ট বোলিং। এতদিন পেসারদের মধ্যে সেরা ছিল ২০০৮ সালে মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শাহাদাত হোসেনের ৬/২৭। এবাদতের ৬/৪৬ ও হাসানের ৬/৫৫-ও ছিল সেই তালিকায়। শরিফুলই এখন বাংলাদেশের প্রথম পেসার, যিনি টেস্টের এক ইনিংসে সাত উইকেট নিলেন।

সব বোলার মিলিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে শরিফুলের অবস্থান তৃতীয়। ২০১৪ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাইজুল ইসলামের ৮/৩৯ এখনো সবার ওপরে। দ্বিতীয় স্থানে ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব আল হাসানের ৭/৩৬। শরিফুলের ৭/৪৮-এর পরে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজের ৭/৫৮ এবং এনামুল হক জুনিয়রের ৭/৯৫।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও বাংলাদেশের সেরা বোলিং এখন শরিফুলের। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে হাসানের ৬/৫৫ গড়েছিল আগের রেকর্ড। সেই রেকর্ডের স্থায়িত্ব হলো মাত্র এক টেস্ট।

শরিফুলের শিকারদের তালিকাটাও বেশ ভারী। ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে তিনি ফিরিয়েছেন বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে। সাত উইকেটের ছয়টিই বোল্ড অথবা এলবিডব্লিউ। কেবল কামিন্স ফিরেছেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে।

এই স্পেলে প্রতি উইকেটের জন্য শরিফুল খরচ করেছেন মাত্র ৬.৮৬ রান। গড়ে ১২.৯ বল পরপর পেয়েছেন একটি করে উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেটের ৭০ শতাংশই নিয়েছেন তিনি একা।

এটি শরিফুলের প্রথম টেস্ট পাঁচ উইকেটও। মাত্র ৮.৫ ওভারে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেছিলেন তিনি, যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় দ্রুততম। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬.৫ ওভারে পাঁচ উইকেট নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে আছেন তাইজুল।

শরিফুলের সাত উইকেটের পরও অস্ট্রেলিয়া ২১০ রান তুলে প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের লিড পেয়েছে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিকদের হাতে থাকলেও বাংলাদেশের রেকর্ডবইয়ের একটি বড় অংশ এখন নতুন করে লিখতে হবে শরিফুলের নামে।