রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে ফেরার ম্যাচেই হোঁচট খাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিলেন হোসে মরিনহো। শেষ পর্যন্ত পর্তুগিজ কোচকে স্বস্তি দিয়েছেন বদলি হিসেবে নামা দলের নতুন তারকা কার্লোস এস্পি। তার শেষ মুহূর্তের গোলে এস্পানিওলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে লা লিগা মৌসুম শুরু করেছে রিয়াল।
১৩ বছরের বেশি সময় পর রিয়ালের কোচ হিসেবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ফিরলেন মরিনহো। শনিবার এস্পানিওলের মাঠে তার ফেরার শুরুটাও হয়েছিল দারুণভাবে। নবম মিনিটে আরদা গুলেরের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন জুড বেলিংহাম।
তবে রিয়ালের স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩০ মিনিটে অ্যালেক্স কালাত্রাভার গোলে সমতায় ফেরে এস্পানিওল। হাভি হার্নান্দেজের পাস থেকে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপ-পরবর্তী ছুটি কাটিয়ে দেরিতে দলে ফেরা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে পুরোপুরি ছন্দে দেখা যায়নি। কিছু সুযোগ তৈরি করলেও রিয়ালের আক্রমণে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। সমতা ভাঙতে দ্বিতীয়ার্ধে মার্ক কুকুরেয়া ও ইয়ান দিয়োমান্দেকে মাঠে নামান মরিনহো।
৭৮ মিনিটে ফেদেরিকো ভালভের্দের শট পোস্টে লেগে ফিরলে পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা আরও বাড়ে রিয়ালের। এর দুই মিনিট পর এস্পিকে মাঠে পাঠান মরিনহো। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল বদলে দেয়।
৯০ মিনিটে এমবাপ্পের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এস্পানিওলের এক ডিফেন্ডার। ছিটকে আসা বল পেয়ে জোরালো শটে জালে পাঠান এস্পি। মৌসুমের আগে লেভান্তে থেকে যোগ দেওয়া ২১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার রিয়ালের হয়ে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই হয়ে যান জয়ের নায়ক।
ম্যাচ শেষে মরিনহো বলেন, ‘এস্পানিওলের জন্য এই হার মেনে নেওয়া কঠিন। তারা শেষ পর্যন্ত লড়েছে। তবে আমার মনে হয়, জয়টি আমাদের প্রাপ্য ছিল।’
বদলি খেলোয়াড়দের অবদানেও উচ্ছ্বসিত রিয়াল কোচ, ‘এটি ছিল আত্মা ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিতে পাওয়া জয়। বেঞ্চ থেকে মাঠে নামা খেলোয়াড়দের মধ্যে যে ক্ষুধা দেখেছি, সেটিই আমাদের প্রয়োজন।’
টানা দুই মৌসুম শিরোপাহীন থাকার পর এবার মরিনহোর অধীনে ঘুরে দাঁড়াতে চায় রিয়াল। প্রত্যাবর্তনের প্রথম পরীক্ষায় তার দল নিখুঁত ফুটবল খেলতে পারেনি, তবে শেষ মুহূর্তের জয় দিয়ে নতুন অধ্যায়ের শুরুটা অন্তত রাঙিয়েছে।