সিলেটের ওসমানীনগরে তেলবাহী ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের মা-বাবা ও এক বোনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহত দম্পতির দুই ছেলেমেয়ে।

আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামশী গ্রামের নিয়ামত আলী (৪০), তাঁর স্ত্রী হজুফা বেগম (২৮), মেয়ে আয়েশা বেগম (৬) ও অটোরিকশার চালক লালন মিয়া (২৮)। লালনের বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুরের মাঝের বাড়ি এলাকায়। নিয়ামত আলীর আদি বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার ইসলামপুরে।

দুর্ঘটনায় নিয়ামত আলীর বড় মেয়ে মারিয়া আক্তার (৮) ও ছোট ছেলে ইয়াকুব আলী (৪) গুরুতর আহত হন। তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তবে দুর্ঘটনায় নিহত মা-বাবা ও বোনের মৃত্যুর খবর এখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি। ছোট চাচা গাজীরুল ইসলাম হাসপাতালেই তাদের দেখাশোনা করছেন।

গাজীরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, চার দিন আগে পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের ইসলামপুরে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন বড় ভাই। আজ সকালে সেখান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনাস্থল থেকে একজন ভাইয়ের ফোন থেকে কল করে খবর দেন। পরে তিনি মাকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখেন, এক ভাতিজি ও এক ভাতিজা চিকিৎসাধীন। তারা জানে না, তাদের মা–বাবা ও বোন মারা গেছে। সুস্থ হওয়ার পর কীভাবে তাদের এই খবর দেবেন, সেটাই ভাবছেন।

ঋণ নিয়ে ফিরছিলেন নিয়ামত

নিহত নিয়ামত আলী কৃষিকাজের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন করতেন। সম্প্রতি হাঁস-মুরগির খামার করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ জন্য অষ্টগ্রামের ইসলামপুরে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকার ক্ষুদ্রঋণ নেন। পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন।

নিয়ামতের ভাই গাজীরুল ইসলাম বলেন, ‘৭০ হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে সকালে ভাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু দুর্ঘটনার পর তাঁর মরদেহের সঙ্গে আমরা ওই টাকা পাইনি।’

পুলিশ জানিয়েছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী পদ্মা কোম্পানির একটি তেলবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, হতাহত ব্যক্তিদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত তেলবাহী ট্রাক ও অটোরিকশাটি জব্দ করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে।