জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ মাছুদা বেগমকে (২৭) অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান শাপলাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

নিহত মাছুদা বেগম ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের দার্রশা খাঁপাড়া গ্রামের মৃত দিলবর মণ্ডলের মেয়ে এবং অভিযুক্ত মেহেদী হাসান কালাই উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। তাদের দীর্ঘ ২০ বছরের দাম্পত্য জীবন এবং ১৩ বছর বয়সি একটি মেয়ে রয়েছে।

মামলার বাদী ও নিহতের ভাই বছির মণ্ডলের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য মাছুদাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন শাপলা। সম্প্রতি তিনি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে মেয়েটি চাচার বাড়িতে থাকার সুযোগে শাপলা পুনরায় পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। মাছুদা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ঘরের ভেতর আটকে রাখা হয় এবং উচ্চশব্দে গান বাজানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে লোহার প্লাস দিয়ে মাছুদার মুখ ও মাথায় আঘাত করা হয়, যাতে তার সামনের ওপরের দুটি দাঁত ভেঙে যায়। এরপর বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর এবং গরম লোহার রড দিয়ে হাত ও পিঠে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এমনকি আহত স্থানে মরিচের গুঁড়া ও লবণ লাগানোর অভিযোগও রয়েছে। একপর্যায়ে মাছুদা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে মৃত ভেবে ঘরে তালাবদ্ধ করে চলে যান শাপলা।

পরদিন বিকেলে প্রতিবেশী রেজাউল করিম ঘরের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্বজনরা তালা ভেঙে মুমূর্ষু অবস্থায় মাছুদাকে উদ্ধার করেন। পুলিশ জানায়, ১৫ আগস্ট জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যায়। প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

গত ১৭ আগস্ট জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হলে আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "১৫ আগস্ট ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছুদাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ডের পর অভিযান চালিয়ে মেহেদী হাসান শাপলাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।"