দিনের শুরুতে মিচেল স্টার্কের ৬ উইকেটে বাংলাদেশের ধস। শেষ বিকেলে শরিফুল ইসলামের ৬ উইকেটে একই পথে অস্ট্রেলিয়া। তবে শরিফুলের সাফল্য দুর্দান্ত বোলিংয়ের ফল, নাকি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের আরেকটি ব্যর্থতা? এই প্রশ্নে কোনো এক পক্ষকে বেছে নিলেন না স্টার্ক। দিলেন ‘ডিম আগে না মুরগি আগে’ ধরনের উত্তর।
বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া একসময় ৪ উইকেটে ১৪৫ রান তুলেছিল। সেখান থেকে মাত্র ৩ রানের মধ্যে আরও ৪ উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা। চারটির তিনটিই নেন শরিফুল। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৬৫ রান।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে শুরুতেই নিজের সীমাটা মনে করিয়ে দেন স্টার্ক, ‘নয় নম্বর ব্যাটার হয়ে আমি ব্যাটিংয়ের পরামর্শ দিতে যাচ্ছি না।’
তবে সতীর্থদের ব্যাটিংকে সরাসরি কাঠগড়ায়ও তোলেননি অস্ট্রেলিয়ার পেসার। তাঁর ব্যাখ্যা, বল নড়াচড়া করলে ব্যাটারদের জন্য কাজটা এমনিতেই কঠিন হয়ে যায়। ফুল লেংথের বল সোজা না এসে সুইং করলে উইকেটের সুযোগ তৈরি হয়। তাই শরিফুলের বোলিং ভালো, নাকি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং খারাপ, এর সরল উত্তর স্টার্কের কাছেও নেই।
স্টার্ক বলেছেন, ‘এটা ডিম আগে না মুরগি আগের মতো প্রশ্ন, ভালো বোলিং না খারাপ ব্যাটিং?’
ডারউইনের প্রথম টেস্টের সঙ্গে ম্যাকাইয়ের পার্থক্যও তুলে ধরেছেন স্টার্ক। তার মতে, আগের ম্যাচে বল তুলনামূলক সোজা এসেছে বলে ব্যাটিং সহজ ছিল। ম্যাকেতে মাঠের আড়াআড়ি বাতাস ও সবুজ আউটফিল্ডের কারণে বলের উজ্জ্বলতা ধরে ছিল। ফলে দিনের শেষ ভাগেও সুইং পেয়েছেন পেসাররা।
সেই সুবিধা দারুণভাবে কাজে লাগান শরিফুল। নিজের প্রথম ওভারেই ট্রাভিস হেড ও মারনাস লাবুশেনকে বোল্ড করেন তিনি। পরে ৪২ রান করা স্টিভ স্মিথকে এলবিডব্লিউ করে ভাঙেন ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে ৭৭ রানের জুটি।
বিউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে একই ওভারে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন শরিফুল। পরের ওভারে স্টার্কের অফ স্টাম্প ছিটকে দিয়ে শিকারসংখ্যা ছয়ে নিয়ে যান। দিন শেষে তাঁর বোলিং ১১ ওভারে ৩৫ রানে ৬ উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে স্টার্ক আলাদা করে প্রশংসা করেছেন অপরাজিত ৫১ রান করা গ্রিনের। তাঁর মতে, গ্রিন নিজের জন্য কার্যকর একটি প্রক্রিয়া খুঁজে পেয়েছেন। ডারউনে শতকের পর কঠিন পরিস্থিতিতে স্মিথের সঙ্গে জুটি গড়া এবং দিন শেষ করে আসা সেই প্রক্রিয়ারই ফল।
দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি ৮ উইকেটও হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। স্টার্ক তাই কোনো একটি ব্যাটিং-পদ্ধতিকে সঠিক বা ভুল বলতে চাননি। তবে তার ‘ডিম-মুরগি’ উত্তরের মধ্যেও শরিফুলের প্রাপ্য স্বীকৃতিটুকু স্পষ্ট, অস্ট্রেলিয়ার ধসের পুরো দায় শুধু ব্যাটারদের নয়।