বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মধ্যেই বল হাতে ফেরার পথ খুঁজছিলেন শরিফুল ইসলাম। সতীর্থ ব্যাটারদের কাছে তার প্রশ্ন ছিল, ম্যাকের উইকেটে কোন জায়গায় পড়া বল খেলতে সবচেয়ে কঠিন? উত্তরটি জেনে মাঠে নেমে অস্ট্রেলিয়ার ছয় ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন বাঁহাতি পেসার।

দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাবে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে ১৬৫ রানে আটকে রাখার মূল কারিগর শরিফুল। ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেটের স্বাদ পাওয়া এই পেসার দিন শেষ করেছেন ১১ ওভারে ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে।

দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন শরিফুল। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের নিয়ে আগে থেকেই আলাদা পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

শরিফুল বলেন, ‘টেস্ট খেলতে এখানে আসার পর অনেক ভিডিও দেখেছি। কোন ব্যাটারকে কীভাবে বল করতে হবে, সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। আজ সেটির ফল পেয়েছি।’

তবে শুধু ভিডিও বিশ্লেষণেই থেমে থাকেননি তিনি। সকালে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামনে ব্যাট করা সতীর্থদের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগিয়েছেন। শরিফুল বলেন, ‘বোলারদের চেয়ে ব্যাটারদের সঙ্গেই বেশি কথা বলেছি। কারণ তারা উইকেটে ব্যাট করেছে এবং কোন জায়গার বল খেলতে বেশি কঠিন, সেটি জানত।’

সতীর্থদের দেওয়া সেই তথ্য কাজে লাগাতে শরিফুলের সময়ও লাগেনি। নিজের প্রথম ওভারে পাঁচ বলের ব্যবধানে ট্রাভিস হেড ও মারনাস লাবুশেনকে বোল্ড করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ১ উইকেটে ৪০ থেকে মুহূর্তেই হয়ে যায় ৩ উইকেটে ৪১।

স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ৭৭ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে সামলে দিয়েছিল। ৪২ রান করা স্মিথকে এলবিডব্লিউ করে সেই প্রতিরোধও ভাঙেন শরিফুল। পরে বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন ছয় উইকেট।

ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট নিয়ে শরিফুল বলেন, ‘অনেক ভালো লাগছে। অনুশীলনে যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, ম্যাচেও সেটিই করার চেষ্টা করেছি।’

মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া এরই মধ্যে ১০১ রানে এগিয়ে গেছে। তারপরও ম্যাচের আশা ছাড়ছেন না শরিফুল, ‘এখনো তো শেষ হয়নি, মাত্র প্রথম দিন গেছে। আমরা এখনো ম্যাচের ভেতরেই আছি।’