সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে নির্বিচারে ৪৫০০টি গাছ কাটার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর উদ্যোগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইচ্ছারচর গ্রামের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমদ, সহ-সভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এম ডি জাকারিয়া, স্থানীয় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি সংগঠনের সভাপতি ইমতাজ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. ঝুহন চৌধুরী, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের ছাতক উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব সুজন তালুকদার এবং দোয়ারাবাজার উপজেলা কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হাসান প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সড়ক উন্নয়নের দোহাই দিয়ে বন বিভাগ অযৌক্তিকভাবে ৪৫০০টি গাছ কাটছে। তাদের দাবি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে এই সড়কে কোনো উন্নয়ন কাজ নেই, অথচ বন বিভাগ ইতোমধ্যে ১ হাজারের অধিক ফলদ, বনজ ও ওষধি গাছ কেটে উজাড় করেছে। গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত বন বিভাগের সিন্ডিকেটের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত এই কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বন বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কে গাছ কাটা অবিলম্বে বন্ধ করা, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের লভ্যাংশ যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া, গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত বন বিভাগ, সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং অবৈধভাবে গাছ বিক্রির পরিকল্পনা ও বৃক্ষনিধনে জড়িত বন বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক কর্তৃক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।
নেতৃবৃন্দ ঘোষণা করেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ না হলে হাওর এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
এই বিষয়ে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “সুনামগঞ্জ থেকে সাচনাবাজার পর্যন্ত সমস্ত রাস্তাই সম্প্রসারণ হবে। এজন্য গাছ কাটা হচ্ছে। ইতোমধ্যে লট ক্রেতারা টাকা জমা দিয়েছেন এবং কার্যাদেশ গ্রহণ করেছেন। গাছ কর্তন চলমান আছে।”
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের টুকের বাজার থেকে সাচনাবাজার পর্যন্ত রাস্তায় আমাদের চলমান কোনো প্রকল্প বা সড়ক বড় করার কোনো কাজ এখন নেই। তাই সড়কের গাছ কাটার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগ ভালো বলতে পারবে।”