আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে মুক্তকণ্ঠের কার্যালয়ে ২০২৬ সালের ২৫ জুন অনুষ্ঠিত হয় ১৭৮তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা। মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের উদ্যোগে বিনা মূল্যে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ দেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ।

এ বারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: চলমান সংকট, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী ফলাফল’। আলোচনায় উঠে আসে—মাদকাসক্তি ও ডিভাইস আসক্তি নিয়ে প্রচলিত একটি ধারণা।

সভায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রায়ই শুনি যে মাদকাসক্তি এবং ডিভাইস আসক্তি নাকি আমাদের মস্তিষ্কের একই অংশে কাজ করে। এই বিষয়ে যদি একটু বিস্তারিত বলতেন।

এর উত্তরে ডা. আহমেদ হেলাল বলেন, ‘হ্যাঁ, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সত্য। মাদকাসক্তি আমাদের ব্রেনের বা মস্তিষ্কের যে সার্কেলে কাজ করে, ডিভাইস আসক্তি বা যেকোনো আচরণগত আসক্তি ঠিক একই সার্কেলে কাজ করে । ব্রেনের এই অংশটিকে বলা হয় ‘রিওয়ার্ড সার্কিট’ বা সহজ বাংলায় ‘ভালোবাসা সার্কিট’। ফলে আসক্তির কারণে মানুষের যে বাহ্যিক আচরণ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা মানসিক বহিঃপ্রকাশ— তা মাদকের ক্ষেত্রেও যা হয়, ডিভাইস আসক্তির ক্ষেত্রেও হুবহু একই রকম হয় । এদের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো— মাদকের ক্ষেত্রে আসক্তিটি কেমিক্যাল বা রাসায়নিক নির্ভর, আর ডিভাইসের আসক্তিটি নন-কেমিক্যালের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া এদের মধ্যে আর কোনোই তফাত নেই । তাই দুই ধরনের আসক্তিতে আক্রান্ত সন্তানের প্রতিই আমাদের সমান সহানুভূতি ও সচেতনতা দেখাতে হবে।’