হারিয়ে যাওয়া কাপ-কেকের রহস্য
বিকেলের মিষ্টি রোদে গোল হয়ে বসে আছে একদল খুদে গোয়েন্দা। মাঝখানে বসে আছেন সবার প্রিয় গণিত ভাইয়া। রহস্য আর গণিতের মজার সব ধাঁধা দিয়ে বাচ্চাদের চমকে দিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার!
একদিন গণিত ভাইয়া ছোট বাচ্চাদের এমনই এক রোমাঞ্চকর গল্প বলছিলেন। তবে তিনি আগেই শর্ত জুড়ে দিলেন — এটি শুধু গল্প নয়, বুদ্ধির পরীক্ষা! গণিত ভাইয়া মুচকি হেসে বললেন, “যে আমার এই গল্পের ধাঁধার সঠিক উত্তর দিতে পারবে, তাকে দারুণ একটি উপহার দেওয়া হবে !”
উপহারের কথা শুনে বাচ্চারা তো লাফিয়ে উঠল। সবার চোখ-মুখ তখন কৌতূহলে চকচক করছে। এরপর ছোট্ট গোয়েন্দাদের জন্য গণিত ভাইয়া শুরু করলেন তাঁর সেই রহস্যময় গল্পটি :
গল্পটা শোনো
আজ মধুবনে ভুলু কুকুরছানার জন্মদিনের পিকনিক! টেবিলের ঠিক মাঝখানে রাখা ছিল চমৎকার একটি তারা আকৃতির কাপকেক। জন্মদিনের গান গাওয়ার সময়ের জন্য ওটা যত্ন করে তুলে রাখা হয়েছিল।
কাপকেকটা দেখতে ঠিক একটা তারার মতোই, এর মাঝের অংশটা সবচেয়ে বড়, আর চারপাশে রয়েছে পাঁচটি কোণা ।
কিন্তু ভুলু যেই একটু অন্যদিকে ফিরেছে… অমনি তারা আকৃতির কাপ-কেক গায়েব!
পিকনিকের বেঞ্চে তখন বসে ছিল ওর চার বন্ধু: ভালুক, খরগোশ, শিয়াল আর প্যাঁচা। ওদের মাঝখান থেকেই কেউ একজন কাপ-কেকটা সরিয়েছে।
ভুলুর এখন একজন চালাক ছোট্ট গোয়েন্দা চাই —সেই গোয়েন্দাটি হচ্ছো তুমি! চলো তো সূত্রগুলো মিলিয়ে বের করে ফেলি, কে নিয়েছে ওই কাপকেকটা!
.প্রত্যেক বন্ধু বেঞ্চের একটা করে আসনে বসে আছে (বাঁ থেকে ডানে ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসন), প্রত্যেকের হাতে রয়েছে একটা করে বেলুন (লাল, নীল, সবুজ বা হলুদ), আর প্রত্যেকের একটা করে প্রিয় সংখ্যা আছে। এখানে কোনো দুজনের কোনো কিছুই এক নয়। পাঁচটা ছোট্ট সূত্র সমাধান করে তথ্যগুলো জোগাড় করো — তারপর শেষ সূত্রগুলো মিলিয়ে কাপ-কেক চোরকে ধরে ফেলো!
• আসন: ১, ২, ৩, ৪ (বাঁ থেকে ডানে)
• প্রিয় সংখ্যার রহস্য! প্রতিটি সূত্র থেকে একটা করে জানা যাবে।
সূত্র ১ : বেলুনের বাক্স সবার আগে ভালুক গেল বেলুন নিতে। তার সামনে দু’টো বাক্স রাখা: একটার গায়ে লেখা “লাল বেলুন”, আরেকটার গায়ে “ লাল বেলুন নয়”। ভুলু হেসে বলল, “ইশ! দুটো বাক্সের লেবেলই তো ভুল লাগানো!”
ভালুক “লাল বেলুন নয়” লেখা বাক্সটা খুলে ভেতরের বেলুনটাই নিয়ে নিল।
প্রশ্ন: ভালুকের বেলুনের রং কী?
সূত্র ২ : পেঁচা কোন আসনে?
পেঁচার আসন নিয়ে দুই বন্ধু দুটো কথা বলল — কিন্তু ভুলু স্পষ্ট দেখল, কথাগুলো বলার সময় ওদের নাক কুঁচকে যাচ্ছে। মানে ওরা দুজনেই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যে বলছে!
• ভালুক বলল: “পেঁচা বসেছে ১ নম্বর নয়তো ২ নম্বর আসনে।”
• শিয়াল বলল: “পেঁচা বসেছে ৩ নম্বর আসনে।”
প্রশ্ন: পেঁচা আসলে কোন আসনে বসেছে?
সূত্র ৩ : ভালুকের প্রিয় সংখ্যা
ভালুক বলল, “আমার প্রিয় সংখ্যাটা ৪-এর চেয়ে বড়, আবার ৮-এর চেয়ে ছোট — আর মজার ব্যাপার হলো, সংখ্যাটিকে সমান দুই ভাগে ভাগ করা যায়।’’
.প্রশ্ন: ভালুকের প্রিয় সংখ্যা কত?
সূত্র ৪ : শিয়ালের পা গোনা
পিকনিকের আগে শিয়াল পুকুরপাড়ে গিয়ে ৩টি হাঁস আর ১টি গরু দেখে এসেছে। সে ওদের সবার পা-গুলো একসাথে গুনল — আর যোগফলটা তার এত পছন্দ হলো যে, সেটাই হয়ে গেল তার প্রিয় সংখ্যা!
প্রশ্ন: শিয়ালের প্রিয় সংখ্যা কত?
সূত্র ৫ : পেঁচার গোলকধাঁধা এই সূত্রটা সবচেয়ে কঠিন! পেঁচা সোজা উত্তর না দিয়ে একটা অঙ্কের গোলকধাঁধা ছুড়ে দিল। নদীর ধারের একটা পাথরে বসে সে ভুলুকে বলল, “আমার প্রিয় সংখ্যা বের করতে হলে তোমাকে তিনটে ধাপে এগোতে হবে:
1. প্রথমে শিয়াল আর ভালুকের প্রিয় সংখ্যা দুটো একসাথে যোগ করো।
2. এবার ভাবো তো, এমন কোন সংখ্যা আছে যাকে সেই একই সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে তোমার ওই যোগফলটা পাওয়া যাবে?
3. সেই রহস্যময় সংখ্যাটিকে ঠিক দ্বিগুণ করলেই পেয়ে যাবে আমার প্রিয় সংখ্যা!”
(ইঙ্গিত: সূত্র ৩ আর সূত্র ৪ আগে সমাধান করো। তাদের যোগফল কত? কোন সংখ্যাকে নিজের সাথে গুণ করলে সেই যোগফল হয়?)
প্রশ্ন: পেঁচার প্রিয় সংখ্যা কত?
পিকনিক টেবিলের আশপাশে ভুলু আরও তিনটে সূত্র পেল। এবার সব একসঙ্গে মেলাও:
1. যার হাতে সবুজ বেলুন, সে বসেছে ১ নম্বর আসনে।
2. নীল বেলুনটা উড়ছে ৪ নম্বর আসনের মাথার ওপরে।
3. যার প্রিয় সংখ্যা ৩, সে বসেছে ভালুক আর পেঁচার ঠিক মাঝখানের আসনে।
তোমার গোয়েন্দা ডায়েরি
যে তথ্যগুলো বের করছ, সেগুলো ছকের ফাঁকা ঘরে এক এক করে লিখে ফেলো: