দেশের চিকিৎসা খাতে অক্সিজেনের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হয়নি। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে গড়ে তোলা সরবরাহব্যবস্থার একটি বড় অংশ বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ে আছে, যা এখন আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

গত মঙ্গলবার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) মাল্টিপারপাস হলে ‘ফ্রম এভিডেন্স টু অ্যাকশন: স্ট্রেনদেনিং ইকুইটেবল অ্যাকসেস টু মেডিক্যাল অক্সিজেন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। আইইউবির সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেস (চিপস) আয়োজন করে এই সংলাপ, যাতে সহযোগিতার providing ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ফার্মেসি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ।

সংলাপের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ফোয়ারা তাসমিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এবং আইইউবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইউবির উপাচার্য ম. তামিম।

অনুষ্ঠানে ফোয়ারা তাসমিম বলেন, “অক্সিজেনের সমতাভিত্তিক প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর ভূমিকা কী হওয়া উচিত, সংলাপে অংশ নিয়ে সে সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।” গবেষণাকে নীতিনির্ধারণী উদ্যোগে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি স্বল্পমূল্যে মানসম্পন্ন অক্সিজেন থেরাপি নিশ্চিত করতে সরকারকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী অক্সিজেনের গুণগত মান এবং সরবরাহ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এতে সরকার, বেসরকারি খাত, জনহিতৈষী প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়—সবারই এখানে ভূমিকা রয়েছে।”

সংলাপের মূল প্রবন্ধ হিসেবে আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী এহসানুর রহমান ‘রিডিউসিং গ্লোবাল ইনইকুইটিজ ইন মেডিক্যাল অক্সিজেন অ্যাকসেস: দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ কমিশন অন মেডিক্যাল অক্সিজেন সিকিউরিটি’ শীর্ষক আলোচনা উপস্থাপন করেন।

মূল প্রবন্ধের পর আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের শিশু ও নবজাতক বিভাগের প্রধান মো. আবিদ হোসেন মোল্লা, আইসিডিডিআরবির মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের ইমেরিটাস বিজ্ঞানী শামস এল আরেফিন, চিকিৎসক ও রোগতত্ত্ববিদ মামুনুর রহমান মালিক এবং মুক্তকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল।

সংলাপে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি), ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, অবসটেট্রিক অ্যান্ড গাইনোকোলজি সোইসাইটি অব বাংলাদেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, ইউএনওপিএস ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইইউবির স্কুল অব ফার্মেসি অ্যান্ড পাবলিক হেলথের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন স্কুল অব ফার্মেসি অ্যান্ড পাবলিক হেলথের ডিন ডা. কামরান উল বাছেত। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আইইউবির ট্রাস্টি রাশেদ চৌধুরী ও হোসনে আরা আলী।