৬৪ রানে অলআউট হলো বাংলাদেশ!

১২ রানেই ছিল না ৫ উইকেট। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ঘণ্টা বাংলাদেশের জন্য ছিল বিভীষিকাময়। সেখান থেকে তুলনামূলক ভালোই শেষ হয়েছে! শেষ উইকেটে তাইজুল ও শরীফুলের ৩৫ বলে ২৫ রানই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি। শেষ ব্যাটসম্যান শরীফুল ১৯ বলে ১৪ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ২৬ বলে ১১ রান করে অপরাজিত থাকলেন তাইজুল।

.

বাংলাদেশের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানই শূন্য রানে আউট হন, টেস্টে প্রথমবার ঘটে এমন ঘটনা। সেখান থেকে শীর্ষ সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ কিছুটা আশা দেখিয়েছিলেন— কিন্তু তারাও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি।

স্টার্ক ১০ ওভার বল করে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট পেয়েছেন। বাকি চার উইকেটের তিনটি কামিন্সের, অন্যটি হ্যাজলউডের।

.
বাউন্স কিছুটা অসমান ছিল। সিমে বল পড়ে এদিক-ওদিক যাওয়াটাও কিছুটা অধারাবাহিক ছিল। বাতাসের কারণে কিছুটা সুইংও করছিল। শেষদিকে উইকেট অবশ্য কিছুটা ফ্ল্যাট হয়ে গেছে। বলের গতি ও সিম মুভমেন্ট অনেকটাই স্বাভাবিক ও ধারাবাহিক হয়ে এসেছিল। আমার মনে হয়, (অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা) প্রথম ২০ ওভার যদি নিরাপদে কাটিয়ে দিতে পারে, সেটাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইনিংস বিরতিতে ফক্স স্পোর্টসকে জস হ্যাজলউড
.
৪৩
টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বনিম্ন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বনিম্ন— দলীয় সংগ্রহের সবগুলো ধাপই একে একে পার করে এসেছে বাংলাদেশ। এবার শেষ উইকেটে গিয়ে নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ডটাও এড়াতে পেরেছে। কামিন্সের বলে চার মেরে বাংলাদেশের রানটা ৪৩–এ নিয়ে গেছেন শরীফুল। হ্যাজলউডকে চার মেরে বাংলাদেশের রান ৪৭ করেছেন তাইজুল ইসলাম। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ রানে অলআউট হওয়াই টেস্টে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড হিসেবে থেকে যাচ্ছে।
.

বাংলাদেশ: ২৫ ওভারে ৩৬/৭

আউট হয়ে গেলেন মেহেদী হাসান মিরাজও। শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। ৫০ বলও খেলে ফেলেছিলেন। কিন্তু মধ্যাহ্নভোজ বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে গেলেন মিরাজ। কামিন্সের অফ স্টাম্পের বাইরে লাফানো বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।

.

বাংলাদেশ: ২৩ ওভারে ৩৫/৬

বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো প্রথম সেশনের শেষ হলো। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাচ্ছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দুই ঘণ্টা বাংলাদেশ ভুলেই যেতে চাইবে। প্রথম বলে সাদমান ইসলামের আউট হয়ে যাওয়ার পরই বিপর্যয়ের শুরু হয়েছিল, প্রথম ঘণ্টায়ই তারা হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। সবগুলোই পান স্টার্ক।

বাঁহাতি এই পেসারের গতি, সুইং তো ছিলই; বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও নিজেদের ওপর বাড়তি চাপ নিয়ে ফেলেছিলেন। হাফভলিতে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে, কারও কারও শট সিলেকশনও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ডও নতুন করে লেখার সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ।

প্রথম ঘণ্টায় বিপর্যয়ের পর মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে একটু আশা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তিনিও কামিন্সের ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হয়ে গেছেন। আপাতত অবশ্য টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন (২৬) ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বনিম্ন (২৭) রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড এড়ানো গেছে। তবে নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ রান এড়াতে এখনও কিছুটা পথ বাকি। হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে যদিও এখন অন্তত পঞ্চাশ পেরোনোর আশা দেখছে বাংলাদেশ। ৪৮ বলে ১১ রান করে মিরাজ ও ২৪ বল খেলে অপরাজিত আছেন হাসান।

.

এদিকে বিরতি শুরুর আগে স্টার্কের সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁর স্ত্রী অস্ট্রেলিয়া নারী দলের সাবেক অধিনায়ক ও এই টেস্টের ধারাভাষ্যকার এলিসা হিলি। স্টার্ক তাঁকে বলেছেন, ‘এই উইকেটে প্রথমে বোলিংয়ের সুযোগ পাওয়াটা চমৎকার ছিল; এখানকার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় বলেছিল এই উইকেটটা অনেকটা গ্যাবার  মতো। তাই উইকেটের শুরুর দিকের সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রথম সেশনেই ছয়টি উইকেট তুলে নিতে পেরে আমরা মোটেও অসন্তুষ্ট নই (হাসি)।’

ডারউন টেস্টের পর বোলারদের মধ্যে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে স্টার্ক বলেন, ‘আমাদের কিছুটা ফুলার লেন্থে বল করতে হতো। প্রথম টেস্টে তারা বেশ ধৈর্য ধরে খুব ভালো ব্যাটিং করেছিল। তাই মূলত আমাদের কাজ ছিল বলের লেন্থ একটু সামনে রাখা, বাউন্সার একটু বেশি ব্যবহার করা এবং ক্যাচগুলো ঠিকঠাক ধরা।’

স্টার্কের বিশ্বাস, উইকেট ধীরে ধীরে ব্যাটসম্যানদের জন্য ভালো হচ্ছে। তাদের ব্যাটসম্যানরা এখানে রান করতে পারবেন।

.

বিপর্যয়ের সময় উইকেটে এসেছিলেন, ১২ রানে ছিল না ৫ উইকেট। মুশফিকুর রহিম রান করার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন একরকম। তাঁর চাওয়া ছিল শুধু উইকেটে টিকে থাকা। কখনো বল ছেড়ে দিয়ে, কখনো ডিফেন্ড করে কাজটা তিনি ভালোই করছিলেন। কিন্তু হুট করে কামিন্সের সামান্য ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড হয়ে গেলেন। ৪২ বলে ৫ রান করেছেন মুশফিক। বাংলাদেশের টেইল শুরু হয়ে গেছে, উইকেটে এসেছেন হাসান মাহমুদ।

টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন (২৬) রানে অলআউটের রেকর্ড এড়াতে বাংলাদেশকে এখনও ৩ রান করতে হবে। নিজেদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৭ এখনও অনেক দূর।

বাংলাদেশ: ১৬ ওভারে ২৩/৬

.

ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ঘণ্টা পার হয়েছে। পুরোটাজুড়েই ছিলেন মিচেল স্টার্ক। বাংলাদেশের ৫ ব্যাটসম্যানের সবাইকে আউট করেছেন। ডেল স্টেইনের ৪৩৯ উইকেট ছাড়িয়ে টেস্টে পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেটের তালিকায় শীর্ষ পাঁচেও চলে এসেছেন স্টার্ক। ৭০৪ উইকেট নিয়ে সবার উপরে আছেন জেমস অ্যান্ডারসন।

.
২২
আজ ২২ বলের মধ্যে বাংলাদেশের ৫ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছেন স্টার্ক। কিন্তু এটা দ্রুততম ফাইফারের রেকর্ড নয়। টেস্টে সবচেয়ে দ্রুততম ফাইফারের রেকর্ড ১৫ বলে— সেটিও কিন্তু স্টার্কেরই! গত বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিতে ১৫ বল লেগেছিল তাঁর। ওই ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়েছিল ২৭ রানে।
.

অবিশ্বাস্য! আগের বলেই স্টার্কের বাউন্সারে বিভ্রান্ত হয়ে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন লিটন দাস। কিন্তু আগেভাগে উদ্‌যাপন করতে গিয়ে ক্যাচটা ছেড়ে দেন ওয়েবস্টার। পরের বলেই তিনি হয়ে গেছেন এলবিডব্লু। শুরুতে অবশ্য আম্পায়ার আউট দেননি। অস্ট্রেলিয়া রিভিউ নেওয়ার পর আউট হয়ে গেছেন লিটন। ৪ ওভারের মধ্যেই ফাইফার পূর্ণ হয়ে গেছে স্টার্কের!

২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। টেস্টে সেটিই তাদের সর্বনিম্ন স্কোর। ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬ রানে অলআউট হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেটিই এখনও টেস্টে কোনো দলের সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ কি পারবে এত রান করতে?

বাংলাদেশ: ৭ ওভারে ১২/৫

.

বাংলাদেশ: ৫ ওভারে ১০/৪

মুমিনুলও আউট। এবারও ফুল লেন্থের বল, একটু দেরিতে সুইং করেছে। মুমিনুলও তানজিদের মতো ‘নাথিং শট’ খেলে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন। স্টার্কের সামনে যেন অসহায় হয়ে গেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এখন পর্যন্ত হারানো ৪ উইকেটের সবগুলোই নিয়েছেন তিনি।

.

বাংলাদেশ : ৩ ওভারে ৯/৩

এবার আউট হয়ে গেলেন তানজিদ হাসান। এবারও বোলারের নাম মিচেল স্টার্ক। তানজিদ কী করলেন তিনি নিজেও হয়তো জানেন না। ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে যেমন বলা হলো, ‘অলস শট।’ স্টার্কের ফুল লেন্থের বল তানজিদের ব্যাট হয়ে স্লিপে ক্যাচে গেছে।

বলতে বলতেই আউট হয়ে গেলেন নাজমুল হোসেনও। তাঁকে দুর্ভাগা বলতে হয়। এলবিডব্লুর সিদ্ধান্তে রিভিউ নিয়েছিলেন। অল্পের জন্য স্টাম্প হিট করেছে, আম্পায়রস কলে আউট হয়েছেন নাজমুল। হতাশাকে সঙ্গী করে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

স্টার্ক হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন স্টার্ক। কিন্তু মুশফিকুর রহিম তা হতে দেননি।

বাংলাদেশ শুরুতেই বড় বিপদে পড়ে গেল। আউট হওয়া তিন ব্যাটসম্যানের সবাই শূন্য রানে ফিরেছেন।

.

প্রথম বলে আউট হয়ে গেছেন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম। স্টার্কের করা ফুল লেন্থের স্টাম্প বরাবর করা বল মিডউইকেটে খেলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর ব্যাটে ঠিকঠাক লাগেনি। গালিতে ক্যাচ ধরা ক্যামেরন গ্রিনও বোধ হয় প্রথম বলে এমন কিছু আশা করেননি!

মিচেল স্টার্কের জন্য যদিও এরকম ঘটনা নতুন নয়। টেস্টে এ নিয়ে চতুর্থবার প্রথম বলেই উইকেট পেলেন বাঁহাতি পেসার। তবে তাঁর চতুর্থ বলে চার মেরেছেন মুমিনুল। তাঁকে এখন দায়িত্ব নিতে হবে। অন্তত নতুন বলটা পার করতে হবে তানজিদ–মুমিনুলকে। নয়তো পরের ব্যাটসম্যানদের আরও বেশি চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে।

বাংলাদেশ: ১ ওভারে ৪/১

.

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়াটাই ছিল অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। বাংলাদেশের সামনে এই ম্যাচে হাতছানি দিচ্ছে আরও বড় কিছু। ম্যাচটা জিতলে দুই টেস্টের সিরিজে ধবলধোলাই হবে অস্ট্রেলিয়া। গত ১৩৯ বছরে অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ধবলধোলাই হতে দেখা যায়নি। সেই ১৮৮৭ সালে ঘরের মাঠে এমন লজ্জার সঙ্গে প্রথম ও সর্বশেষ দেখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। দুই ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজটা ইংল্যান্ড জিতেছিল ২-০ ব্যবধানে। দুটি টেস্টই হয়েছিল সিডনিতে। প্রথম টেস্টে ১৩ রানে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচটি ৭১ রানে জেতে ইংলিশরা।

ওই ধবলধোলাইয়ের পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া একাধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছে ১১০টি। কিন্তু কখনো তারা সিরিজের সবগুলো ম্যাচই হারেনি। এবার কি বাংলাদেশ তা করে দেখাতে পারবে? সেই প্রস্তুতিটা গতকাল তারা কীভাবে নিয়েছে তা পড়তে পারেন মুক্তকণ্ঠের ক্রীড়া সম্পাদক তারেক মাহমুদের এই লেখায়— ম্যাকাইকে বুঝতে কী কী করছে বাংলাদেশ

.

ডারউইন টেস্টের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। চোটের কারণে ওই টেস্টের দলে না থাকা শরীফুল ইসলাম খেলছেন আজ। তাঁকে জায়গা দিতে এই ম্যাচের একাদশে নেই ইবাদত হোসেন। কম্বিনেশনটা আগের মতোই— সাত ব্যাটসম্যান, স্পিনার হিসেবে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে তাইজুল ইসলাম আর তিন পেসার।

অস্ট্রেলিয়াও প্রথম টেস্টে একাদশে একটিই পরিবর্তন এনেছে। প্রথম টেস্টের পর দল থেকে বাদ পড়া জেক ওয়েদারাল্ডের জায়গা ঢুকেছেন রেনশ। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলবেন রেনশ। ভারতের বিপক্ষে সেই টেস্টে তিনি খেলেছিলেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে। এবার খেলবেন ওপেনার হিসেবে।

বাংলাদেশ একাদশ: সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ম্যাট রেনশ, ট্রাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড।

.

টস হেরে গেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। আগের ম্যাচেও তাই হয়েছিল। তখন আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বাংলাদেশের বোলাররা নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ১৯৮ রানেই অলআউট করে দেয় স্বাগতিকদের। এবার অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের বিপক্ষে সেই চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের।

.

প্রথম টেস্ট জেতার পর বাংলাদেশকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আগ্রহ বেড়েছে অনেক। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। আজ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ স্টেডিয়ামেরও অভিষেক হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে। স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমিদের জন্যও দিনটা তাই স্পেশাল।

ম্যাকাই থেকে মুক্তকণ্ঠের ক্রীড়া সম্পাদক তারেক মাহমুদ জানালেন, খেলা শুরুর এক ঘণ্টা আগেই গ্যালারি প্রায় ভরে গেছে। বাংলাদেশেরও অনেক দর্শকরা এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার অন্য শহরগুলো থেকে। রাস্তায়ও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে গাড়ির চাপ বেশি।

.

মাঠে এর মধ্যে দুই দলের ক্রিকেটাররা চলে এসেছেন। তারা ওয়ার্ম আপ করেছেন। একটা উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। মাঠের পরিবেশেও ‘টেস্ট মেজাজ’ আছে। এখন শুধু খেলা শুরু হওয়ার অপেক্ষা!

.

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ম্যাকাই টেস্টের সরাসরি ধারাবিবরণীতে সবাইকে স্বাগতম।

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ডারউইনে অসাধারণ খেলে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ, সিরিজে এগিয়ে আছে ১-০ ব্যবধানে।

এবার বাংলাদেশের সামনে সিরিজ জেতার সুযোগ। ম্যাকাইয়ের দ্য গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনাতে এই টেস্টটা না হারলেই প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয়ের অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়বে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশ দলের খবর জানাতে ডারউইনের মতো ম্যাকাইয়েও আছেন মুক্তকণ্ঠের ক্রীড়া সম্পাদক তারেক মাহমুদ এবং আলোকচিত্রী শামসুল হক।