এক সপ্তাহের ব্যবধানে একেবারে বিপরীত দুই ছবি। ডারউনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার পথে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। ম্যাকেতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সেই দলের প্রথম ইনিংস থামল মাত্র ৬৪ রানে।

প্যাট কামিন্স টসে জিতে বোলিং নেওয়ার পর ম্যাচের প্রথম বলেই বাংলাদেশের বিপর্যয়ের শুরু। মিচেল স্টার্কের বলে ক্যামেরন গ্রিনকে ক্যাচ দিয়ে কোনো রান না করেই ফেরেন শাদমান ইসলাম। টেস্টে চতুর্থবার ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার।

মুমিনুল হকের দুটি চারে প্রথম ওভার থেকে ৮ রান এলেও স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরান স্টার্ক। দুজনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। মুশফিকুর রহিম হ্যাটট্রিক ঠেকালেও বাংলাদেশের ধস থামাতে পারেননি।

৯ রান করা মুমিনুলকে গ্রিনের ক্যাচ বানিয়ে চতুর্থ উইকেট নেন স্টার্ক। এরপর তার বলে সহজ ক্যাচ দিয়েও জীবন পেয়েছিলেন লিটন দাস। পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন শূন্য রানে। মাত্র ২২ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের স্কোর ৫ উইকেটে ১২ করে দেন স্টার্ক।

মুশফিক ও মেহেদী হাসান মিরাজ কিছুক্ষণ উইকেটে থাকার চেষ্টা করেন। তবে কামিন্সের ভেতরে ঢোকা বলে ৫ রান করে বোল্ড হন মুশফিক। ৬ উইকেটে ৩৫ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পর আবার শুরু হয় উইকেটের মিছিল। কামিন্সের বলে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১১ রান করা মিরাজ। হাসান মাহমুদকে ১০ রানে ফেরান জশ হ্যাজলউড। এরপর ১ রান করা তাসকিন আহমেদও কামিন্সের শিকার হলে মাত্র ৩৯ রানেই নবম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এক পর্যায়ে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন টেস্ট সংগ্রহ ৪৩ রানের নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। শেষ উইকেটে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম সেই লজ্জা এড়িয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তাদের লড়াইয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছায় ৬৪ রানে। শেষ ব্যাটার শরিফুলকেও ফিরিয়ে নিজের ষষ্ঠ উইকেট নেন স্টার্ক।

ডারউনে ইতিহাস গড়ার পর ম্যাকেতে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম ইনিংসেই শূন্যের মিছিল আর স্টার্কের তোপে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তুলে দিল অস্ট্রেলিয়ার হাতে।