গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যার পর বাহনটি ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। ছেলের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে শোক সহ্য করতে না পেরে জহুরা খাতুন (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা মা মৃত্যুবরণ করেছেন।
নিহত চালক আতাউর রহমান (৫৫), যিনি স্থানীয়ভাবে আতা নামে পরিচিত ছিলেন, কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের চেংনা এলাকার বাসিন্দা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর সরকার বাড়ির পাশের কাঁচা রাস্তায় আতাউর রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। সন্তানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন মা জহুরা খাতুন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান।
নিহত আতাউরের ফুফাতো ভাই আকরাম হোসেন রিপন জানান, ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পরপরই ফুফু মারা যান। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, "অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার সময় চালক বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ খবর শুনে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলেও জেনেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
এই ঘটনায় গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইউবী বলেন, "অটোরিকশাচালককে নির্মমভাবে হত্যার পর তার বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যুর ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। আমি শোকার্ত পরিবারের পাশে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছি এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছি।"