মহসিন নাকভির হাত থেকে কি ট্রফি নেবে ভারত?
এক বছর পর আবারও এই প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতে পারে ভারতীয় ক্রিকেট। এবার মঞ্চ নারী এশিয়া কাপ, আর ভেন্যু সেই দুবাই। ২৮ আগস্ট শুরু হবে এবারের আসর। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ১৩ সেপ্টেম্বর।
ভারত ফাইনালে উঠলে এবং শিরোপা জিতলে পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে নাকভির উপস্থিতি নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। কারণ, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে মহসিন নাকভি এখনো একই পদে আছেন।
.গত বছর ছেলেদের এশিয়া কাপের ফাইনালেও একই ঘটনা ঘটেছিল। দুবাইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও এসিসির সভাপতি নাকভির কাছ থেকেও ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানান তাঁরা।
এরপর দীর্ঘ সময় আটকে থাকে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। শেষ পর্যন্ত ট্রফি নিয়ে মাঠ ছেড়ে যান নাকভি। এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই ট্রফি নিয়ে ভারত ও নাকভির বিরোধের পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। মানে ট্রফি ভারত এখনো পায়নি।
.পিসিবি ও এসিসির দায়িত্বের পাশাপাশি নাকভি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। গত বছর ভারতীয় দলের পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি একাধিকবার সমালোচনা করেছিলেন।
ফাইনাল নিয়ে পরে ঝামেলা মেটাতে উদ্যোগ নেয় বিসিসিআই। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া নাকভির সঙ্গে বৈঠকও করেন। বৈঠকের পর তিনি বলেছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ‘বরফ গলেছে’। তবে ট্রফি নিয়ে জট কাটেনি।
.নাকভি পরে জানান, ভারতীয় দল চাইলে দুবাইয়ে এসিসি কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে পারে। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও বিষয়টির সমাধান হয়নি।
.স্বাভাবিকভাবেই এবার সেই বিতর্কই ফিরতে পারে নারী এশিয়া কাপে। এই টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তান একই গ্রুপে। ৫ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বেই মুখোমুখি হবে দুই দল।
দুই দল আবার মুখোমুখি হতে পারে শুধু ফাইনালে। নারী এশিয়া কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ভারত। সাতবার শিরোপা জিতেছে তারা। নয়টি আসরেই ফাইনাল খেলেছে ভারত।
পাকিস্তান এখনো এই টুর্নামেন্টে শিরোপার দেখা পায়নি। তারা ফাইনালে উঠেছে মাত্র দুবার—২০১২ ও ২০১৬ সালে। এবার অবশ্য গ্রুপে তুলনামূলক কম শক্তিশালী থাইল্যান্ড ও হংকং থাকায় তাদের সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ রয়েছে।
ভারতীয় নারী দলও সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের মেয়েদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে না। এশিয়া কাপেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। আর হারমানপ্রীত কৌরের দল ফাইনালে উঠে শিরোপা জিতলে গত বছরের ঘটনার পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এসব বিষয়ে বিসিসিআই এখনো কোনো অবস্থান জানায়নি। ফলে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না নাকভি মঞ্চে থাকলে ভারতীয় দল তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নেবে কি না।
.বাংলাদেশ শুধু আমাদের গলার ওপর পা রেখেই গেছে, বলেছেন ক্যামেরন গ্রিন