এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লিগে রাজশাহী স্টারস টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। আজ মালয়েশিয়ার সাবাহ এফসির কাছে ২–১ গোলে হারার ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে গোলাম রব্বানীর দলের। ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৮৭ মিনিটে মোসাম্মৎ সুলতানা একটি গোল শোধ করেন। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার দুর্দান্ত লং শটটি কেবল হারের ব্যবধান কমাতে সক্ষম হয়।
রাজশাহী স্টারসের খেলোয়াড়রা, বিশেষ করে তহুরা, মারিয়া ও মনিকা, নিজেদের পরিচিত খেলায় ফিরে আসতে পারছেন না। জাতীয় দলের ১৬ খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও তাদের মাঠে পরিচিত ছন্দ দেখা যাচ্ছে না।
লিকাস স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে রাজশাহীর ফুটবলে ছিল না কোনো ধার। পাসিংয়ে ভুল এবং আক্রমণে পরিকল্পনার অভাব ছিল। সাবাহ একের পর এক আক্রমণে রাজশাহীর রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিল। প্রথম ৪৫ মিনিটে সাবাহ গোলমুখে ছয়টি শট নেয়, যার তিনটি ছিল লক্ষ্যে। ৪২ মিনিটে গোছানো এক আক্রমণ থেকে সাবাহ প্রথম গোলটি করে।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে রাজশাহী স্টারস, কিন্তু সাবাহ নিজেদের রক্ষণ আরও শক্ত করে ফেলে। ৫৫ মিনিটে মারিয়া মান্দার দূরপাল্লার শট সহজেই সাবাহ গোলকিপার আসমা আটকান। ৬৮ মিনিটে তহুরার উদ্দেশ্যে মনিকা চাকমার লম্বা পাস লক্ষ্যে পৌঁছায়নি।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর আক্রমণের ধারও কমতে থাকে। ৮০ মিনিটে সাবাহ দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। বিমলা বিকে ও আফঈদা খন্দকারকে কাটিয়ে সাবাহর ফরোয়ার্ড এঞ্জি হেকিমা গোল করেন। সুলতানার গোল রাজশাহীকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও হার এড়ানো সম্ভব হয়নি।
রাজশাহী স্টারস নিজেদের প্রথম ম্যাচেও ইস্ট বেঙ্গলের কাছে ৪–০ গোলে হেরেছিল। অন্যদিকে সাবাহ নিজেদের প্রথম ম্যাচে গুয়ামের রোভার্স এফসিকে ১৩–০ গোলে পরাজিত করেছিল। ২৩ আগস্ট একই মাঠে রোভার্স এফসির বিপক্ষে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে রাজশাহী।
এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম দুই আসরে বাংলাদেশের কোনো ক্লাব অংশ নেয়নি। এবার তৃতীয় আসরে বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে রাজশাহী প্রথমবারের মতো এশিয়ার ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।