লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক গৃহবধূকে নৌকায় করে মেঘনার চরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বুধবার (১৯ আগস্ট) রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

মামলার আসামিরা হলেন রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরঘাসিয়া গ্রামের ইসমাইল মিজির ছেলে ট্রলারমাঝি আবদুর রহমান (৩৫) ও তার ভাই মহিমা (২৫)। পুলিশ বর্তমানে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর আগে মুন্সীগঞ্জের এক যুবকের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয় এবং তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। তবে তিন বছর আগে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরবর্তীতে মেঘনার চরে সয়াবিন আনা-নেওয়ার কাজে যাতায়াতের সময় ট্রলারমাঝি আবদুর রহমানের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে নদীতে ঘোরানোর কথা বলে আবদুর রহমান ওই নারীকে নৌকায় করে মেঘনার চরঘাসিয়ার চান্দার খালে নিয়ে যান। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবদুর রহমানকে আটক করে ইউপি সদস্য হানিফ দেওয়ানের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ভুক্তভোগী নারী বিয়ের দাবি জানালে আবদুর রহমান ও তার ভাই মহিমা তাকে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিকার না পেয়ে বুধবার তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর ওই দিনই লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে তিনি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। বর্তমানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, "বিয়ের আশ্বাসে ঘুরতে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে মারধরের বিষয়টিও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"