ভারতের কলকাতায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমিন, দুই বছরের শিশুসন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত এবং আফসানার বাবা আকরাম আলী। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তাদের মরদেহ কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কলকাতা থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিহত দেবাশীষের ভায়রা ভাই ফিরোজ হাসান মিঠু। মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তিনি বুধবারই কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
প্রিয়জনদের ফেরার অপেক্ষায় কুষ্টিয়ার উভয় পরিবারে এখন শোকের মাতম চলছে। শেষবারের মতো তাদের মুখ দেখার ব্যাকুল অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ দত্ত ও তার দুই বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তের শেষকৃত্য সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে। এজন্য ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে স্থান নির্ধারণ ও কেনা হয়েছে। অন্যদিকে, দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন ও তার বাবা আকরাম আলীর মরদেহ কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী দাফন করা হবে।
জানা গেছে, ভালোবাসার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে ১১ বছর আগে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন দেবাশীষ ও আফসানা। দেবাশীষ সনাতন ধর্মের অনুসারী এবং আফসানা মুসলিম। বিয়ের পরও আফসানা ধর্ম পরিবর্তন করেননি এবং স্বামীর পরিবারে থেকে নিয়মিত নিজের ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করতেন।
আফসানার বড় বোন আফরিন ফারজানা মেঘলা জানান, গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার সময় আফসানা তাকে বলেছিলেন, ‘আমি যদি মারা যাই, তাহলে আমাকে দাফন কোরো।’ বোনের সেই শেষ ইচ্ছা ও ধর্মীয় পরিচয় অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা তাকে ইসলামী রীতিতে দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আফসানার বোন আশা প্রকাশ করেন, দেবাশীষের পরিবার এ বিষয়ে কোনো আপত্তি জানাবে না।
এদিকে শোকাতুর বাবা দিলীপ দত্ত বলেন, “আমার পরিবার থেকে আমার ছেলে গেছে, ছেলের বউ গেছে আর নাতি গেছে...।” আফসানার দাফন প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাদের মেয়েকে তারা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে শেষকৃত্য করতে পারে।