পৃথিবীজুড়ে কানে একাধিক দুল পরার রীতি নতুন নয়। তবে কিছুটা ভিন্নভাবে সাজিয়ে নেওয়ার প্রবণতায় তরুণীদের মধ্যে এই ধারা এখন আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। ছোট-বড় নানা ধরনের দুল একসঙ্গে পরছেন তাঁরা, পোশাকের ধরন ও ব্যক্তিগত রুচির সঙ্গে মিল রেখে সাজ বেছে নিচ্ছেন অনেকেই।

গয়নার ব্র্যান্ড সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরির স্বত্বাধিকারী জেরিন তাসনিম খান বলেন, ‘একাধিক কানের দুলের প্রচলন অনেক পুরোনো। তবে আজকাল এটি নতুনভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।’

জমকালো পোশাকের সঙ্গে কানের লতি ও হেলিক্সে (কানের সবচেয়ে বাইরের বাঁকানো অংশ) মিল রেখে একই নকশার দুল পরা যেতে পারে। পাশাপাশি কানের মাঝের অংশে তুলনামূলক ছোট দুই-তিনটি দুলও রাখা যায়।

পশ্চিমা পোশাকের সঙ্গে একাধিক দুল পরতে চাইলে হুপ, ড্রপ, স্টাড ও কাফ বেছে নেওয়ার পরামর্শও দেখা যায়। কয়েকটি দুলের মধ্যে একটি বা দুটি পুঁতি বা পাথরের হতে পারে। নিজের পছন্দ অনুযায়ী দুল সাজিয়ে নেওয়া যায়; এক্ষেত্রে সবচেয়ে লম্বা দুলটি কানের লতিতে পরলে দেখতে ভালো লাগে। অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা অ্যাসিমেট্রিক লুক পেতে চাইলে দুই কানে দুই ধরনের দুলও পরতে পারেন।

তবে ‘একাধিক দুল পরতে চাইলে কানে একাধিক ছিদ্র থাকতেই হবে, এমন কিন্তু নয়।’ যারা একাধিকবার কান ফোঁড়াতে চান না বা ভয় পান, তাঁদের জন্য বিকল্প হিসেবে ক্লিপ-অন দুলের কথা বলা হয়। এসব দুল ব্যবহার করে কানে ছিদ্র ছাড়াই একাধিক দুল পরা সম্ভব। এ ছাড়া কানের ওপরের অংশে ইয়ার কাফও পরা যায়।

কানে একাধিক ছিদ্র করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের নাক, কান ও গলা বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী বলেন—

  • কানের লতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রয়োজনের অতিরিক্ত ছিদ্র না করাই ভালো।

  • যদি কেউ ছিদ্র করাতেই চান, তাহলে অবশ্যই অভিজ্ঞ ব্যক্তির মাধ্যমে করাতে হবে।

  • কানের নরম অস্থিতে ছিদ্র করা উচিত নয়। এতে সংক্রমণ হতে পারে।

  • এমনকি পেরিকন্ড্রাইটিসের মতো জটিলতা দেখা দিলে কানের আকৃতিও পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে।

  • কান ফোঁড়ানোর সময় ব্যবহৃত যন্ত্র জীবাণুমুক্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আঠারো বছরের কম বয়সীদের একাধিকবার কান ফোঁড়ানোও নিরুৎসাহিত করেন তিনি।