আমাদের স্বাস্থ্যের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই হরমোনের প্রভাব আছে। বিপাকক্রিয়া ও ঘুম থেকে শুরু করে শরীরের শক্তির মাত্রা, প্রজননস্বাস্থ্য বা মানসিক সুস্থতা—সবকিছুর সঙ্গেই হরমোনের ঘনিষ্ট সম্পর্ক। তাই হরমোনের ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনযাপনে ছোট ছোট পরিবর্তন নিয়মিত অনুসরণ করলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা যায় অনেকটাই। জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিনের এমন খুবই সাধারণ সাতটি অভ্যাস সম্পর্কে, যা হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে পারে।
.ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত ও পুনর্গঠিত করে। একই সঙ্গে কর্টিসল, ইনসুলিন, প্রজননসম্পর্কিত হরমোনসহ বেশ কিছু হরমোনের কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির রাতে টানা সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত।
.পূর্ণ শস্য, চর্বিহীন প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফলমূল ও শাকসবজিসমৃদ্ধ খাবার শরীরে হরমোন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আঁশ ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার রাখলে বিপাকক্রিয়া ও প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও এসব উপাদান ভূমিকা রাখে।
.যে ১০ উপায়ে প্রাকৃতিকভাবে বাড়বে সুখের হরমোন .দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে ডিম্বস্ফুটন, নিয়মিত মাসিক ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত হাঁটা, ধ্যান, গভীর শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন কিংবা নিজের পছন্দের কোনো শখ বা কাজে সময় দেওয়া কার্যকর হতে পারে।
.নিয়মিত ব্যায়াম শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বা সংবেদনশীলতা বাড়ায়, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং হরমোনের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম, সাঁতার কিংবা শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের মতো মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা দীর্ঘ মেয়াদে উপকারী। একই সঙ্গে এসব শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপও সৃষ্টি করে না।
শরীরের ওজন খুব কম বা অতিরিক্ত বেশি—দুই অবস্থাতেই হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে হরমোনের স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়াকড়ি বা সীমাবদ্ধতামূলক ডায়েটের চেয়ে টেকসই ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শরীরচর্চা বেশি কার্যকর।
.নারীর শরীরে এই পুরুষ হরমোন বেড়ে গেলে কী হয় জানেন? .মাসিক অনিয়মিত হওয়া, অতিরিক্ত ব্রণ, অকারণ দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, হঠাৎ ওজন বেড়ে বা কমে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত চুল পড়ার মতো উপসর্গকে নিয়মিত বা স্বাভাবিক বিষয় ভেবে উপেক্ষা করবেন না। এসব লক্ষণ শরীরে কোনো হরমোনসম্পর্কিত অন্তর্নিহিত সমস্যা থাকার ইঙ্গিত দিতে পারে।
.নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, থাইরয়েডের সমস্যা, ভিটামিনের ঘাটতি কিংবা বিপাকক্রিয়াজনিত বিভিন্ন সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠার আগেই শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা মানুষকে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।
সূত্র: হেলদি এসেনশিয়াল ক্লিনিক
.পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরন কমে গেলে যেসব সমস্যা হতে পারে