চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় বিষ দিয়ে ২৯টি পাখি হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলার আবেদন জানিয়েছে বন বিভাগ। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা আদালতে এই অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়। দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী মামলাটি আবেদন করেছেন।

বন বিভাগের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ফসলি জমিতে পাখি শিকারের উদ্দেশ্যে বীজে বিষ মিশিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই বিষাক্ত বীজ খেয়ে মোট ২৯টি পাখি মারা যায়, যার মধ্যে ২৪টি তিলা ঘুঘু, তিনটি চড়ুই ও দুটি কবুতর রয়েছে।

ঘটনাটি প্রথমে শনাক্ত করেন কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের দামুড়হুদা এসএফপিপি এলাকার ফরেস্টার সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী ও তার সহকর্মীরা। এরপর ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় দামুড়হুদার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিন আলমের নেতৃত্বে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

বন বিভাগের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযানের সময় অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান পালিয়ে যান। তবে তার ছেলে মো. রাজনকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়। রাজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বাবা-ছেলে উভয়েই পাখি নিধনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকে বিষ প্রয়োগে ব্যবহৃত উপকরণ এবং মৃত পাখিগুলো জব্দ করা হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় আলামত ও জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রী বলেন, "বিষ দিয়ে ২৯টি পাখি হত্যার ঘটনা বন বিভাগ নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত জব্দ করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।"

তিনি আরও জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর ৩৮(১)/৪২ ধারাসহ প্রযোজ্য আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নিহত পাখিগুলোর আনুমানিক আর্থিক মূল্য ৫ হাজার ২১০ টাকা এবং পরিবেশগত ক্ষতি ২ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ফরেস্টার শাহজামান রিপণ ও মো. মাসুদ রানা।