কয়েক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে একটি গুঞ্জন ঘুরপাক খাচ্ছে। তাতে দাবি করা হয়, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস নাকি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এমনও বলা হয়, মরক্কোর একজন কাজির উপস্থিতিতে ইসলামিক রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখানে নিজেও উপস্থিত ছিলেন। এসব কথা ঘিরেই ছড়ায় বিভ্রান্তি।
তবে জল্পনা-কল্পনার জবাব দিতে মুখ খুলেছেন রবার্তো কার্লোস নিজেই। তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের খবর পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও অসত্য। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই লেফটব্যাক সম্প্রতি সৌদি আরবের দৈনিক পত্রিকা ওকাজের সঙ্গে কথা বলেছেন।
জেদ্দাভিত্তিক ওকাজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লোস বলেছেন, ‘ইসলাম ধর্মের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখাটা সত্যিই চমৎকার এক অভিজ্ঞতা। তবে আমার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের যে গুঞ্জন চারপাশে ঘুরছে, তা সত্য নয়।’
ওই আলোচনায় ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই লেফটব্যাক আরও বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতে সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে একাধিক রীতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তাঁর মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’
কার্লোসের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর ধর্মীয় অনুভূতি ও বন্ধুদের সম্মান জানিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের দৃশ্য ও কার্যক্রম থেকেই অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটি নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।
এ সময় তিনি সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন। ফুটবল-সম্পর্কিত এক ব্যবসায়িক বৈঠকে তাঁদের প্রথম দেখা হয় বলে জানান কার্লোস। তিনি বলেন, সোহাইলা একজন সফল নারী ব্যবসায়ী। দুই বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক—এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত ও পেশাগত দিক মিলিয়ে বোঝাপড়াও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মরক্কো ও ব্রাজিলে বিয়ে নিয়ে কৌতূহল তৈরির পেছনে একদিকে সোহাইলার মরোক্কান পরিচিতি, অন্যদিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ রবার্তো কার্লোসের বিশ্বব্যাপী পরিচিতির বিষয়টিও কাজ করেছে বলে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে, আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ৫৩ বছর বয়সী কার্লোসের তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তাঁর তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় সংসার করার পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তাঁর মেয়ে জিওভানা এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ায় তিনি এরই মধ্যে নানাও হয়ে গেছেন।