পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন পরিষদের ১২ জন সদস্য। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এই অনাস্থা প্রস্তাবটি দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। লিখিত আবেদনে ইউপি সদস্যরা উল্লেখ করেছেন যে, চেয়ারম্যানের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহারের কারণে তার সঙ্গে আর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, "সম্প্রতি এক নারী ইউপি সদস্য লাঞ্ছিত হলেও চেয়ারম্যান অভিভাবক হিসেবে কোনো ব্যবস্থা নেননি। পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতির একাধিক তথ্য-প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে সবাই মিলে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছি।"
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হালিম। তিনি দাবি করেন, "আমার কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি নেই। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে জিন্নাহ মেম্বারের নেতৃত্বে অনাস্থা প্রস্তাবের এই চক্রান্ত করা হয়েছে।"
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীৎ সাহা অনাস্থা প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "লিখিত আবেদনটি পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬ হাজার ৭৫১ ভোটের ব্যবধানে সুন্দরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন মো. আব্দুল হালিম।