বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ ও তাঁর স্ত্রী সুনিতা আহুজার দাম্পত্য জীবন নিয়ে গত বছর থেকেই বিভিন্ন আলোচনা চলেছে। তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে গোবিন্দর ব্যবস্থাপক শশী সিনহা জানিয়েছেন, সুনিতা বিচ্ছেদের মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

মুম্বাইয়ের বান্দ্রার একটি আদালতে সুনিতাকে দেখা গেছে। তবে সে সময় আদালতে যাওয়ার কারণ জানা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরেই গোবিন্দ ও সুনিতার সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন সময় এসব বিষয়ে জবাবও দিয়েছেন গোবিন্দ।

মিডিয়ায় বিষয়টি যেভাবে সামনে এসেছে, সে বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন গোবিন্দর ব্যবস্থাপক শশী সিনহা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে তিনি বলেন, বিষয়টি এত দূর গড়ানোর প্রয়োজন ছিল না।

শশী বলেন, ‘ঝগড়া হয়, তারপরও সম্পর্ক চলতে থাকে। কিন্তু বিষয়টি যখন আদালতে যায়, তখন পুরো পৃথিবী তা জেনে যায়। পৃথিবীর কি জানার দরকার ছিল? কোনো প্রয়োজন ছিল না। পারিবারিক বিষয় পরিবারের মধ্যেই থাকা উচিত।’

শশী সিনহা আরও বলেন, পরিবারের সদস্যরা বসে কথা বললে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। মামলা প্রত্যাহার করা হলেও শুরুতে আদালতের পথে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না—সেটাও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শশীর ভাষায়, ‘এটা আমাকে কষ্ট দেয়। আমরা কেন নিজেদের তামাশায় পরিণত করলাম?’

মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে গোবিন্দর পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শশী জানিয়েছেন, বিষয়টি অল্প সময় আগে ঘটেছে। তাই গোবিন্দর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি।

পরকীয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে গোবিন্দ-সুনীতার ৩৭ বছরের সংসার ভাঙার প্রসঙ্গও আলোচনায় ছিল। শশী বলেন, ‘ঈশ্বর সবাইকে সুবুদ্ধি দিন এবং সবাই যেন বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেন, এটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি গোবিন্দ, সুনিতা, তাঁদের সন্তানসহ সবার মঙ্গল চাই।’

গোবিন্দ ও সুনিতা ১৯৮৭ সালে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই সন্তান—মেয়ে টিনা আহুজা ও ছেলে যশবর্ধন আহুজা।

২০২৫ সালে হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৫৫-এর ধারা অনুযায়ী গোবিন্দর বিরুদ্ধে মামলা করেন সুনিতা। তাঁর অভিযোগ, গোবিন্দ পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন, সংসারে নির্যাতন করেছেন এবং দাম্পত্যে প্রতারণা করেছেন। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন গোবিন্দ।

এনডিটিভি অবলম্বনে