গত বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় মাত্র একটি সিনেমা। তবু সেই এক সিনেমা ‘দাগি’ দিয়েই দর্শক-সমালোচকের নজর কাড়েন তমা মির্জা। একই সঙ্গে তিনি নতুন প্রজেক্ট নিয়েও ব্যস্ত—আগস্টের শেষে শুরু হবে ‘খলনায়ক’-এর শুটিং। তিন মাসের বেশি সময় ধরে জীবনেরও নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে তার। এ সময়ের ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন মনজুর কাদের।

‘দাগি’র পর একাধিক ছবিতে অভিনয়ের প্রসঙ্গ উঠেছিল। এ নিয়ে একাধিক পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিটিংও হয়েছিল। কয়েকটি ছবির কাজও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত এগোচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনোটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এগোননি ঢালিউড অভিনেত্রী তমা মির্জা।

পরবর্তীতে একটি নতুন ছবিতে তার অভিনয়ের খবর চাউর হয়। একাধিক সূত্র বলছে, ছবিটিতে অভিনয়ের বিষয়টি শতভাগ চূড়ান্ত। কয়েকদিন আগেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন তমা। তবে এ বিষয়ে এখনই সরাসরি কিছু বলছেন না তিনি। একইভাবে ছবিটির পরিচালক ভিকি জাহেদ ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা আইও বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি।

সূত্রগুলো জানায়, চলতি মাসের শেষ অথবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় ছবিটির শুটিং শুরু হতে পারে। ভিকি জাহেদ পরিচালিত ছবিটির প্রাথমিক নাম ‘খলনায়ক’—তবে পরে নাম পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে গতকাল তমা অভিনয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন: “‘একটা ছবি করছি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আগেও আমার কাজ হয়েছে, অভিজ্ঞতাও দারুণ। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে, “দাগি”র পর এর চেয়ে সুন্দর গল্পে ফেরাটাই আমার জন্য সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। আমার চরিত্রটিও বেশ মনে ধরেছে। বাদবাকি সব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভালো বলতে পারবে।’”

ছবিসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে ‘খলনায়ক’-এ মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। তবে মুক্তির দিনক্ষণ সম্পর্কে তমা নিজে এখনই জানেন না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানই ভালো বলতে পারবে।’

নায়িকা এখন ব্যাংকার

অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন জীবনের এক অধ্যায় শুরু করেছেন তমা মির্জা। প্রায় তিন মাস হলো দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি—ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস) পদে কাজ করছেন তিনি। নতুন এই পরিচয় ও দায়িত্ব বেশ উপভোগ করছেন তমা। তার ভাষায়, ‘নতুন সহকর্মী, নতুন পরিবেশ। নতুন বন্ধুও পেয়েছি। সব মিলিয়ে দারুণ কাটছে।’

ব্যাংকার হয়ে কি অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়বেন—এমন প্রশ্নে তমা বলেন, ‘অভিনয় আমার প্রথম ভালোবাসা আর ভালো লাগার জায়গা। এখানেই আছি, থাকব, আমৃত্যু কাজ করব ইনশা আল্লাহ। ব্যাংক কর্তৃপক্ষও আমার অভিনয়ের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। তাই অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।’

অভিনয়ের বাইরে নতুন পেশাকে নিজের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখছেন তমা। তিনি বলেন, ‘আমি খুব বেছে বেছে কাজ করি। বছরে একটা কিংবা দুটো সিনেমায় কাজ করি। জীবনের বাকি সময়টা অন্য কিছু এক্সপ্লোর করতে পারাটা দারুণ একটা সুযোগ। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আমার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই।’

‘দুই বন্ধু’ নিয়ে আফসোস

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের গায়ক-নির্মাতা অঞ্জন দত্তের পরিচালনায় ‘দুই বন্ধু’ নামে একটি ওয়েব সিরিজ করেন তমা মির্জা। কলকাতার কোনো নির্মাতার সঙ্গে সেটাই ছিল তার প্রথম কাজ। শুরুতে তাই কিছুটা নার্ভাস ছিলেন তিনি। তবে কাজ করতে গিয়ে সেই অস্বস্তি দ্রুত কেটে যায়। অঞ্জন দত্তের পরিচালনার ধরন ও ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হন তমা। কলকাতায় টানা ৯ দিন ধরে শুটিং হয়েছিল। কাজের ধরন ও পেশাদার পরিবেশ তার ভালো লেগেছিল। তমা বলেন, ‘এক শিফট করে কাজ হয়েছে। টিম খুব গোছানো। সবাই জানে কে কী করবে। অনেক কিছু শিখেছি।’

তবে শুটিং শেষ হওয়ার এত দিন পরও সিরিজটি মুক্তি পায়নি। মুক্তি প্রসঙ্গে কোনো তথ্যও তার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তার মধ্যে দেখা যায় কিছুটা অভিমান ও হতাশা। তমা বললেন, ‘এটা নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। কী আছে এর ভাগ্যে, প্রযোজক-পরিচালকই ভালো বলতে পারবেন। আমি আর এটা নিয়ে কিছুই ভাবছি না।’

২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলীর ‘নদীজন’-এ অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া তমা সময়ের সঙ্গে নিজেকে ভেঙেছেন, বদলেছেন অভিনয় ধরন। ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’, ‘সাত নম্বর ফ্লোর’, ‘ফ্রাইডে’, ‘সুড়ঙ্গ’ ও সর্বশেষ ‘দাগি’—এই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে তার অভিনয় পরিবর্তনের সাক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।