কদিন আগে হঠাৎ করেই শোনা যায় অভিনয় ছেড়ে দিচ্ছেন হাসান মাসুদ। সত্যতা জানতে অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল মুক্তকণ্ঠ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল আলম।
.আপনি নাকি অভিনয় ছেড়ে দিচ্ছেন?
.হাসান মাসুদ : এটা ভুলভাবে ছড়িয়েছে। আমি অভিনয় ছাড়ছি না। করোনার সময় কম কাজ হয়েছে। তা ছাড়া পরে ভালো চরিত্র পাচ্ছিলাম না। যে কারণে অভিনয় থেকে দূরে ছিলাম। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভুলভাবে কথাটা ছড়িয়ে পড়ে। আমারও হয়তো বোঝানোটা ভুল ছিল। এখনো আমি অভিনয় করব। আমি অভিনয়ের পাশাপাশি সুযোগ হলে গান করতে চাই।
.আপনার শুরুটা গান দিয়ে, পরে আর গানে নিয়মিত হলেন না কেন?
হাসান মাসুদ : সংগীতেও আমার পরিচিতি একটা মহলে ছিল। যদি গানটাই শুধু নিয়মিত গেয়ে যেতাম, তাহলে হয়তো আমার প্রজন্মের একজন গায়ক থাকতাম। কিন্তু সেটা হয়নি। কারণ, আমি সেনাবাহিনীর চাকরিতে চলে গেলাম। গান থেকে সরে গেলাম।
সেনাবাহিনীতে নাকি আপনার নাম ছিল জন হেনরি?
.হাসান মাসুদ : আমি সেখানে একটা গান গাইতাম, ‘নাম তার ছিল জন হেনরি’। আর হাসান মাসুদ নামে আরও অনেকে ছিল। সেই কারণে ডাকনাম হয়ে গিয়েছিল জন হেনরি। সেনাবাহিনীতে পুরো কর্মজীবনে এই নামই শুনেছি।
.গায়ক না হয়ে চাকরিতে কেন গেলেন?
হাসান মাসুদ : বাবা একদিন ডেকে বললেন, ‘হাসান, আমি তো কোনো দিন তোমাকে কোনো কাজে বাধা দিইনি, সব স্বাধীনতা দিয়েছি। এখন আমার চাকরির বয়স শেষ, অবসরে যাব। এরপর তোমাকে পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে।’ বাবার কথাগুলো আমাকে চিন্তায় ফেলে দিল। দীর্ঘদিন উদীচী করেছি। পেছনে তাকিয়ে দেখলাম ক্যারিয়ারের জন্য তেমন কিছুই করা হয়ে ওঠেনি। নতুন করে ভাবতে হলো। একদিন সেনাবাহিনীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে পরের দিনই আবেদন করি। ভাগ্যক্রমে চাকরিটা হয়ে যায়। কিন্তু গানের ক্যারিয়ারে ছেদ পড়ল।
‘ব্যাচেলর’ সিনেমার জন্য, ‘আজকে না হয় ভালোবাসো, আর কোনো দিন নয়’ গানটি রেকর্ডিং করেছিলেন, সেটা পরে বাদ গেল কেন?
.হাসান মাসুদ : গানটি ‘মিন্টু আমার নাম’ সিনেমার। খুরশীদ আলম গেয়েছিলেন। সেটাই আমরা মজা করে, ব্যঙ্গ করে গেয়েছিলাম। কিন্তু সেই রেকর্ডিং করা গান এডিটিং প্যানেল থেকে বাদ গেল। সিনেমা বড় হয়ে গিয়েছিল কমাতে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এটা নিয়েও আমার কষ্ট হয়।
.‘ব্যাচেলর’ সিনেমার প্রিমিয়ারে আপনাকে নাকি শিল্পী–কলাকুশলীদের সঙ্গে বসতে দেওয়া হয়নি?
হাসান মাসুদ : ‘ব্যাচেলর’ ছিল আমার প্রথম ছবি। প্রিমিয়ার হয় বলাকা সিনেমা হলে। আমি পরিবার নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কেউ আমাকে চিনতে পারল না। ওরা আমাকে ওপরে বসার জন্য পাঠিয়ে দিল। সেখানে বসেই সিনেমা দেখলাম। সিনেমা শেষে সিনেমাটি নিয়ে কথা হচ্ছিল। চাষী নজরুল ইসলাম বললেন, ‘একজনের অভিনয় ভালো লেগেছে। সেটা আমি ভুলব না। সেই অভিনেতাকে এখানে দেখছি না।’ তখন সবার টনক নড়ল, এই হাসান মাসুদ কই? ফরিদুর রেজা সাগর ভাই (পরিচালক মোস্তফা) সরয়ার ফারুকীকে জিজ্ঞেস করল, ‘হাসান কই?’ তখন সরয়ার আমাকে ফোন দিল। বললাম ওপরে আছি। আমাকে দ্রুত নিচে নামতে বলল। বললাম, নিচে নামতে পারব না। আমার অভিমান হয়েছিল। পরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের লোকেরা এসে ক্ষমা চেয়ে নিচে নিয়ে গেল। আমি স্বাগত বক্তব্য দিয়ে আবার ওপরে চলে যাই।
আপনি তো সাংবাদিক হিসেবে পাকিস্তানেও গিয়েছিলেন।
.হাসান মাসুদ : ২০০৪ সালে ১৬ বছর পরে পাকিস্তানে খেলতে গিয়েছিল ভারত ক্রিকেট টিম। তখন এক বছরের ব্যবধানে আমি দ্বিতীয়বার পাকিস্তানে যাই। তত দিনে পাকিস্তানের সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয় হয়ে গেছে। ওরা আমাকে বেশ পছন্দ করত। আমি ওদের সঙ্গেও অনেক বিষয়ের প্রতিবাদ করেছি। একবার করাচিতে এক সাংবাদিক আমাকে বলেছিল, ‘তুম বাংলাদেশ থে আয়া হো, তুম মুসলমান হো, হামারা ভাই হো।’ আমি তার সব কথা বুঝতেছি। তারপরও তাকে ‘পারডন’ বললাম। তখন সে ইংরেজিতে একই কথা বলতে লাগল, যার অর্থ, ‘তুমি বাংলাদেশ থেকে এসেছ, তুমি মুসলিম। আমরা ভাই ভাই।’ তখন বললাম আমরা কখনোই ভাই ছিলাম না। ভাই মনে করলে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটত না। এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে সে থতমত খেয়ে গেল। এর পর থেকে পাকিস্তানের সাংবাদিকেরা মেপে মেপে কথা বলত।
.এখন তো শুটিং নেই, সময় কীভাবে কাটান?
.হাসান মাসুদ : আমি দৈনন্দিন কাজ ছাড়াও নিয়মিত সিনেমা দেখি। প্রতিদিনই সিনেমা দেখি। আড্ডা হয়, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটে।