মাদারীপুরের কালকিনিতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের করা একটি মামলা তুলে নিতে বাদী নাদিয়া সুলতানা মুন্নিকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে মাদারীপুর শহরের একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী নারী নাদিয়া সুলতানা।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের পূর্ব কালাই সরদারের চর এলাকার হান্নান মিয়ার মেয়ে ও প্রবাসী আমিনুল ইসলামের স্ত্রী নাদিয়া সুলতানা মুন্নির সঙ্গে ওই এলাকার রফিকুল ইসলাম ও মান্নান বেপারীসহ কয়েকজনের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এই বিরোধের সূত্র ধরে গত ৯ জানুয়ারি রফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা নাদিয়া সুলতানার বসতবাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। বাধা দিতে গেলে নাদিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী প্রথমে কালকিনি থানায় অভিযোগ জানালেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরবর্তীতে নাদিয়া বাদী হয়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে রফিকুল ইসলামসহ ৮ জন নামধারী এবং ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে ১ মার্চ কালকিনি থানা মামলাটি রেকর্ড করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কালকিনি থানার উপপরিদর্শক আবু তালেব মুন্সী গত ২৯ এপ্রিল রফিকুল ইসলাম, মান্নান বেপারী ও আলী বেপারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে মামলার ধারা সঠিক না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বাদী নাদিয়া আদালতে নারাজি জানান। অভিযোগ উঠেছে, এই নারাজি জানানোর কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিপক্ষের লোকজন নাদিয়া ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নাদিয়া সুলতানা মুন্নি বলেন, "আমার স্বামী বিগত দশ বছর ধরে সৌদি আরবে থাকেন। আমার স্বামী পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে আমার ভাশুর মান্নার বেপারী বিরোধ শুরু হয়। ২০২২ সালে নতুন করে আমি ১৬ শতাংশ জমি ক্রয় করলেও আমাদের সেই জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয় না। পরে আমি আদালতে মামলা করি। মামলায় রায় আমাদের পক্ষে বের হলে আমার ভাশুর মান্নান বেপারী ও রফিকদের নিয়ে আমার জমি দখল করতে আসেন ৯ জানুয়ারি। পরে তাদের বাধা দিলে তারা আমাদের বসতঘরে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।"
তিনি আরও বলেন, "মামলা করার পর থেকে আমাকে রফিক ও মান্নান বেপারী হুমকি দিয়ে আসছিল। আদালতে ধারা পরিবর্তন করে পুলিশ অভিযোগপত্র দিলে আমি নারাজি জানাই। পরে আদালত নারাজি গ্রহণ করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর থেকে আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমি ৬ মাসের গর্ভবতী। আমার সন্তানসহ আমাকে খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি আতঙ্কে আছি।"
ভুক্তভোগী নারী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রত্যাশা করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বাদীকে হত্যার হুমকির বিষয় আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ নেই। বাদী তার নিরাপত্তার কথা আমাদের জানালে আমরা আইনগতভাবে সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।"