ভারতের কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার চারজন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরও আছেন।

নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকও ছিলেন। ওই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) এবং শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) মারা গেছেন। চিকিৎসার জন্য ১৫ দিন আগে তাঁরা ভারতের কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে যান। আজ বুধবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় ওই হোটেলে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়ার ওই চারজনও সেই তালিকায় আছেন।

সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯) কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার দিলীপ দত্তের ছেলে। আজ সকালে দিলীপ দত্ত ছেলে, পুত্রবধূ ও তাঁদের সন্তানের মৃত্যুর খবর পান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ছেলের (দেবাশীষ) লাশের ছবি দেখেছেন।

দিলীপ দত্ত জানান, দেবাশীষের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে ফাহিমাকে (৮) রেখে ৩ আগস্ট তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান। দুই দিন পর তাঁর শ্বশুরও কলকাতায় যান। প্রথমে তাঁরা কলকাতায় দুই দিন ছিলেন। এরপর স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে যান। তিনি বলেন, গত সোমবার রাত এগারোটায় উড়োজাহাজে করে কলকাতায় আসেন তাঁরা এবং সেখানে একটি হোটেলে ওঠেন। আজ সকালে তিনি অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের সবাই মারা গেছেন বলে জানতে পারেন।

দেবাশীষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আজ সকাল থেকে তাঁর বাড়িতে বন্ধু, সাংবাদিক ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন। ছেলেকে হারিয়ে মা স্বপ্না দত্ত পাগলপ্রায় হয়ে পড়েন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন, ‘আমার দেবা (দেবাশীষ) একটু পরই বাড়িতে আসবে। এত দেরি করছে কেন? রাতে বলেছিল, ব্যাগ গোছাচ্ছে। সকালেই রওনা দেবে বাড়ির উদ্দেশে।’