নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আজ বুধবার দুপুরে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে রবিউল সিকদার (৩৭)-কে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি তারিকুজ্জামান জানান, ঘটনার ৩০ দিন এবং অভিযোগ (চার্জ) গঠনের দিন থেকে ৯ কর্মদিবসের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রবিউল সিকদার নড়াইল সদর উপজেলার মৃত আতিয়ার সিকদারের ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলার শুনানি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আজিবুর রহমান ও অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি তারিকুজ্জামান লিটু। বাদীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ইস্রাফিল খবির রাজু। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন কাজী আবুল কালাম।

তারিকুজ্জামান বলেন, ‘নড়াইলের জনগণের দাবি ছিল, চাঞ্চল্যকর এ ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। আদালতের মাধ্যমে আজ এ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। আমাদের দাবি থাকবে, এই মামলায় যে আদেশ হয়েছে, এটা যেন দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন হয়।’

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকেলে শিশুটি তার বাবার সঙ্গে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি আসে। ওই সময় শিশুটির জন্য তার মা ঘরে নুডলস রান্না করছিলেন এবং বাবাও ঘরেই বসে ছিলেন। পরে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে যায়। ৩-৪ মিনিট পর শিশুটিকে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় পরিবার বাইরে খুঁজেও তার কোনো খোঁজ পায়নি।

সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে প্রতিবেশী রবিউলের বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে শিশুটির বাবা ডাকাডাকি করেন। এ সময় রবিউল নিজ ঘরের দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে যান। দ্রুত ঘরের মধ্যে ঢুকে শিশুটির বাবা খাটের ওপর চাদর দিয়ে মোড়ানো অচেতন অবস্থায় রক্তাক্ত শিশুটিকে দেখতে পান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে স্থানীয় লোকজন রবিউলকে আটক করে পুলিশে দেন। ওই দিনই শিশুটির বাবা নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় রবিউলের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়। পরে আদালতে রবিউল দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ রবিউলকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয়। ৬ আগস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ৯ আগস্ট আদালত চার্জ গঠন করে। এ মামলায় বাদীসহ মোট ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মামলায় কোনো সাফাই সাক্ষী ছিল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দ্রুততম সময়ে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং রাষ্ট্রের কাছে দ্রুততম সময়ে রায় কার্যকরের দাবিও জানান।

নিহত শিশুর বাবা বলেন, ‘অল্প সময়ে যে রায় হয়েছে, এতে আমি খুশি। রায় কার্যকর হলে আমি অনেক খুশি হব। সেই কার্যকরের জন্য আমি দাবি জানাই।’