মেহেরপুর সদর উপজেলার রায়পুর গ্রামে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যের ভুয়া পরিচয় দিয়ে মাদক উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে মামুন (৩৫) নামে এক যুবক স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন। পরবর্তীতে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে পুলিশের পোশাক, ওয়াকিটকি, ভুয়া পরিচয়পত্র ও ক্যাপ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রায়পুর গ্রামের হাইলদ্দি শেখের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, আটক মামুন মেহেরপুর সদর উপজেলার আশরাফপুর গ্রামের কলিমুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে রায়পুর গ্রামে মামুনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি মাদক উদ্ধারের কথা বলে হাইলদ্দি শেখের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন। তার চালচলন সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে দাবি করলেও পরে কথার অসঙ্গতি ধরা পড়লে নিজেকে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত এনএসআই সদস্য বলে পরিচয় দেন।
পরিচয়ের সত্যতা যাচাই করতে স্থানীয়রা যখন চুয়াডাঙ্গা এনএসআই কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন, তখন সেখানে মামুন নামে কোনো কর্মকর্তা বা সদস্য কর্মরত নেই বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর স্থানীয়রা মেহেরপুর সদর থানা পুলিশকে খবর দেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়দের দাবি, আটক মামুনের কাছ থেকে পুলিশের পোশাক, ওয়াকিটকি, আইডি কার্ড ও ক্যাপ পাওয়া গেছে। এসব সামগ্রী তার কাছে কীভাবে এলো এবং সরকারি সংস্থার ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করার পেছনের উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, "বিষয়টি প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। আটক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় এবং তার কাছে পাওয়া সামগ্রীর উৎস সম্পর্কে তদন্ত করা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"