দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ও প্রথম পূর্ণাঙ্গ নারী কারাগার কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের চার দেয়ালের মাঝে বর্তমানে বেড়ে উঠছে ৬২টি শিশু। সাধারণ বন্দিদের পাশাপাশি বন্দি মায়েরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে রাখার সুযোগ পান এই কারাগারে। শিশুদের সঠিক পরিচর্যা ও বিকাশের লক্ষ্যে এখানে ডে কেয়ার সেন্টার ও শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কারাসূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর মহিলা কারাগারের মূল ধারণক্ষমতা ২১২ জন হলেও বর্তমানে সেখানে বন্দির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮২ জনে। বন্দি নারীদের একটি বড় অংশ হত্যা মামলার আসামি, বাকিরা মাদক ও অন্যান্য সাধারণ মামলার আসামি। এছাড়া এখানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিও রয়েছেন। কারাগারের 'কলমিলতা' ভবনে সাধারণ বন্দি এবং ‘মাধবীলতা’ ভবনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের রাখা হয়। এই বন্দিদের মধ্যেই অর্ধশতাধিক মায়ের সঙ্গে শৈশব কাটাচ্ছে ওই ৬২ শিশু। তবে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দি থাকায় শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শিশুদের যত্ন ও সুস্থ বিকাশের জন্য কারাগারে একটি একতলা ডে কেয়ার সেন্টার রয়েছে। সেন্টারটিতে ছোট খেলার মাঠ, শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি এবং খেলাধুলার নানা সরঞ্জাম রয়েছে। তিন বছরের বেশি বয়সি শিশুদের অক্ষরজ্ঞান ও প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষক নিযুক্ত রয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে গান, নৃত্য ও চিত্রাঙ্কন শেখানো হয়।

কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের সকাল ও দুপুরসহ দৈনিক প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা হয়। কেউ কেউ গর্ভাবস্থায় কারাগারে এসে সন্তান প্রসব করেন, আবার কেউ দুগ্ধপোষ্য শিশু নিয়ে বন্দি হন। প্রসূতি ও নবজাতকের জন্য পোশাকসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কারাগার থেকেই সরবরাহ করা হয়। শিশু বাসিন্দাদের মধ্যে কয়েকজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সন্তানও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারারক্ষী জানান, "আমাদের অনুমতি ছাড়া কথা বলার নিয়ম নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, কারাগারে থাকা শিশুদের সর্বোচ্চ যত্ন নেওয়া হয়। সাধারণত ৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা মায়ের সঙ্গে থাকতে পারে। এরপর তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাখার মতো কেউ না থাকলে মায়ের সম্মতিক্রমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে যত সুযোগ-সুবিধাই দেওয়া হোক না কেন, বাইরের মুক্ত পরিবেশের সঙ্গে তো কারাগারের তুলনা চলে না।"

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলর মোছা. আলিভা শারমিন বলেন, "বর্তমানে আমাদের কারাগারে ৭৮২ জন বন্দি রয়েছেন। বন্দি মায়েদের সঙ্গে ৬২টি শিশু রয়েছে, যার মধ্যে কিছু মায়ের একাধিক সন্তানও আছে। শিশুদের শিক্ষা ও যত্ন নেওয়ার জন্য ডে কেয়ারে শিক্ষক ও আয়া রয়েছেন। তাদের অত্যন্ত মমতার সঙ্গে লালন-পালন করা হয়।"