চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার পর চার দিন পর অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় সীতাকুণ্ড মডেল থানা-পুলিশ মামলাটি দায়ের করে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী ইউডি মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত স্ক্র্যাপ জাহাজে প্রবেশ করে তদন্ত শুরু করেছে একাধিক প্রতিনিধিদল। শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) প্রতিনিধিরা বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তদন্ত দলে শিল্প ও নৌ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসসহ ঢাকার বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী সাংবাদিকদের জানান, জাহাজের ‘ব্যালাস্ট ট্যাংকে’ বিপজ্জনক মাত্রায় বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ‘প্রান্তিক’ ও ‘আলিফ’ নামের দুটি উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় গ্যাসের মাত্রা ও ধরন নির্ণয়ের কাজ চালানো হবে।
তিনি আরও জানান, জাহাজে হাইড্রোজেন সালফাইডসহ অন্য কোনো বিষাক্ত গ্যাস জমা ছিল কি না এবং ইয়ার্ডের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত ১৪ আগস্ট সকালে ভাটিয়ারীর স্টেশন রোড এলাকায় উক্ত শিপইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।