রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় এক গৃহবধূ ও এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলার বোয়ালিয়া ও রতনদিয়া ইউনিয়নে এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটে।

বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের পান্নু কাজীর স্ত্রী মিম খাতুন (২০) স্বামীর কাছে হাতখরচের টাকা না পেয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে হাতখরচের জন্য স্বামীর কাছে টাকা চাইলে পান্নু কাজী তা দিতে পারেননি, যা নিয়ে দম্পতির মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। এরপর পান্নু কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। দুপুরে শাশুড়ি জরিনা বেগম জোহরের নামাজের জন্য মিমকে ডাকতে গেলে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখেন। ডাকাডাকি ও ধাক্কা দিয়েও সাড়া না পেয়ে তিনি চিৎকার করলে স্বজনরা দরজা খোলেন। ভেতরে বাঁশের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে কালুখালী থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে রতনদিয়া ইউনিয়নের রূপসা গ্রামে রাতুল (১৪) নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র সাত মাস বয়সে মাকে হারানো রাতুল বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পর নানি নাজমা বেগমের কাছে বড় হয়। ছোটবেলা থেকেই সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিল। সোমবার সকালে নানির কাছে ৫০০ টাকা চাইলে নানি তাকে মামার কাছ থেকে টাকা নিতে বলেন। এরপর রাতুল নিঃশব্দে নিজের ঘরে চলে যায়। বিকেলে নাজমা বেগম ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে পুরোনো ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, "পৃথক দুটি ঘটনায় প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"