দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের নামে ঘুষ নেওয়ার সময় তহশিলদার, অফিস সহকারী ও এক দালালকে হাতেনাতে আটক করেছেন স্থানীয়রা। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিদের পরবর্তীতে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

আটককৃতরা হলেন—শংকরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার মাহমুদ হাসান, অফিস সহকারী শাহজাহান আলী এবং দালাল আব্দুর রহিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার পাঁচকুড় গ্রামের resident শরিফ উদ্দিনের ৮০ শতক জমির ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ১৯ হাজার ৭২০ টাকা পরিশোধের জন্য তহশিলদার মাহমুদ হাসানের স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নোটিশে উল্লেখ ছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে সরকারি খাস দখলে নেওয়া হবে।

এই নোটিশ পাওয়ার পর সোমবার শরিফ উদ্দিনের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার কর পরিশোধ করতে শংকরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তহশিলদার মাহমুদ হাসান তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা গ্রহণ করেন এবং বাকি ১২ হাজার ৭২০ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন।

তবে সুরাইয়া আক্তারকে দেওয়া রশিদে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ মাত্র ৭৩৮ টাকা লেখা থাকায় তার সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি চিৎকার শুরু করলে অফিসের অন্যান্য সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং স্থানীয়রা তহশিলদার মাহমুদ হাসান, অফিস সহকারী শাহজাহান আলী ও দালাল আব্দুর রহিমকে আটক করেন। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের হেফাজতে নেয়।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, "শরিফ উদ্দিনের জমির জন্য ১৯ হাজার ৭২০ টাকা ভূমি উন্নয়ন করের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর মাত্র ৭৩৮ টাকার রশিদ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের আটক করে।"

দিনাজপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন জানান, "এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে শংকরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার, অফিস সহকারী ও একজন দালালকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।"